
|
মুসলিমদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে আশার আলো ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’
প্রকাশ:
০১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতে সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার অর্থই হলো দীর্ঘ কারাবাস এবং জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি। তবে গত দুই দশকে এই অন্ধকার পথে আশার প্রদীপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্র লিগ্যাল এইড কমিটি’। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শত শত নিরপরাধ মুসলিম যুবককে কারাগার থেকে মুক্ত করে তারা দেশে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ২০০৭ সালে মহারাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মুসলিম যুবকদের গণ-গ্রেফতারের ঘটনা যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন তৎকালীন এটিএস (ATS)-এর টার্গেট থেকে নিরপরাধদের বাঁচাতে মরহুম গুলজার আহমেদ আজমি এই কমিটির ভিত্তি স্থাপন করেন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানির নির্দেশনায় এবং আর্থিক সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই আইনি সংগ্রাম আজও অবিচল গতিতে এগিয়ে চলছে। কমিটির তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘ এই পথচলায় এ পর্যন্ত ৩৩৯ জনকে সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস এবং ২৪০ জনকে জামিন পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কমিটি সারা দেশে ৫০০ জন বন্দির মামলা পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৮৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১২৫ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন। কমিটির আইনি উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহিদ নাদিম জানান, দিল্লিকে কেন্দ্র করে লখনউ, জয়পুর, কলকাতা, পাঞ্জাব, পাটনা থেকে শুরু করে সুদূর আসাম পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দক্ষ আইনজীবীদের মাধ্যমে তারা মামলাগুলো পরিচালনা করছেন। কমিটির সাফল্যের ঝুলি অনেক সমৃদ্ধ। উল্লেখযোগ্য কিছু মামলার মধ্যে রয়েছে: অক্ষরধাম মন্দির হামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সুপ্রিম কোর্ট থেকে সসম্মানে খালাস। ৭/১১ মুম্বাই ট্রেন ব্লাস্ট: ১৯ বছরের আইনি লড়াই শেষে ১২ জন নিরপরাধের মুক্তি। মালেগাঁও ২০০৬ ও ২৬/১১ মুম্বাই হামলা: মিথ্যা অভিযোগে জড়িতদের মুক্তি নিশ্চিত করা। সিআরপিএফ রামপুর ও পাটনা গান্ধী ময়দান মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কমিয়ে কারাদণ্ড নিশ্চিত করা। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেও কমিটি পিছিয়ে নেই। আর্থিকভাবে অসচ্ছল বন্দিদের পরিবারকে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের প্যারোলে মুক্তির জন্য সর্বাত্মক আইনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কমিটি। বর্তমানে জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের সভাপতি মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোহাম্মদ ইউসুফ কাসেমির নেতৃত্বে একদল নিবেদিতপ্রাণ আইনজীবী ও সমাজকর্মী এই মহান দায়িত্ব পালন করছেন। আইনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জটিল ও স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে জমিয়তের এই বলিষ্ঠ আইনি পদক্ষেপ দেশের বিচার ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সূত্র: ইউএনএ নিউজ আওয়ার ইসলাম/জেডএম |