
|
সেজদারত অবস্থায় মাকে কুপিয়ে হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন
প্রকাশ:
০১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
কুমিল্লা প্রতিনিধি- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য জোহরের নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় নিজ মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর ছিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত আবু বক্কর ছিদ্দিক ঘটনার দিন মাদকের টাকা না পেয়ে তার ৮০ বছর বয়সী মা মোছা. খায়েরা বেগম ওরফে খায়রুন্নেছার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে জোহরের নামাজ আদায়ের সময় তার মা সেজদায় থাকা অবস্থায় কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় ছোট ভাই আবু বক্কর ছিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। রায়ের পর মামলার বাদী মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে একাধিকবার তাকে সংশোধনের চেষ্টা করা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত তা কার্যকরের দাবি জানান। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর ছিদ্দিককে কড়া পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আওয়ার ইসলাম/জেডএম |