
|
শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের
প্রকাশ:
০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং তাদের পুনঃকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়া শিল্পকলা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার মজলিসে শুরার বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমিক ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করেন। হঠাৎ চাকরি হারালে তারা তাৎক্ষণিকভাবে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন, কারণ তাদের সঞ্চয় থাকে না এবং নতুন চাকরি পাওয়াও সহজ হয় না। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাঁটাই কেবল শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট। তাই তুচ্ছ কারণ, শৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাত কিংবা মালিকপক্ষের আর্থিক সমস্যার কথা বলে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কথা বলছে। কিছুটা কমলেও তা এতটা নয় যে শ্রমিকদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করতে হবে। যেসব শ্রমিক স্বল্প বেতনে কঠোর পরিশ্রম করে এ শিল্পখাতকে টিকিয়ে রেখেছেন, দুঃসময়ে তাদের কর্মহীন করে দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তিনি আরও বলেন, শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কারণেও শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মালিক ও শ্রমিককে পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়। ইতোমধ্যে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধের পাশাপাশি তাদের পুনঃকর্মসংস্থানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে মানুষ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন বাজি রেখেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জনগণকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে এবং দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে অধিকার, ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণভিত্তিক রাজনৈতিক চেতনা গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে। /আইও |