
|
পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের শরিয়াহ দায়িত্ব ও একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
প্রকাশ:
০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৪৮ রাত
নিউজ ডেস্ক |
|| মুফতি ইউসুফ সুলতান || ‘আপনার ব্যাংকে শরিয়াহ পরিপালনের ব্যাপারে চূড়ান্ত দায়িত্বশীল কে?’ প্রশ্নটি রেখেছিলাম একঝাঁক ইসলামি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের সামনে। উত্তর আসে ভিন্ন ভিন্ন। কেউ বলেন এটি শরিয়াহ বোর্ডের দায়িত্ব, কেউ বলেন অফিসারদের, কেউ বলেন ম্যানেজমেন্টের। শেষে একজন চেয়ারম্যান নিজের বুকে হাত দিয়ে সরাসরি বলেন, ‘আসলে এই দায়িত্ব আমার।’ এই প্রশ্ন আর তার বহুমুখী উত্তরই বলে দেয় গত শনিবার Bangladesh Bank-The Central Bank of Bangladesh -এর আয়োজনে দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপটি ঠিক কতটা প্রয়োজনীয় ছিল। বিষয়বস্তু ছিল "Shariah Roles of Chairmen of Board of Directors in Islamic Banking Operations", অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমে শরিয়াহ পরিপালন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের দায়দায়িত্ব ঠিক কী। Bangladesh Institute of Bank Management -BIBM -এর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ প্রোগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয় নিজে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ পরিপালনে সবাইকে, বিশেষত বোর্ড অব ডিরেক্টরসকে, সচেষ্ট হতে হবে। শরিয়াহ বোর্ডকে ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের জন্য কাজের পরিবেশ সহজ করে দিতে হবে। এই সেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকসের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও একাধিক পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য মুফতি শাহেদ রহমানী সাহেব এবং মাওলানা শাহ ওয়ালিউল্লাহ সাহেব, যাঁরা শরিয়াহ গভর্ন্যান্স ও ইসলামি অর্থনীতির মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। এই কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল শরিয়াহ পরিপালনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ, বিশেষত পর্ষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। এই বিষয়ে সেশন পরিচালনা করার সুযোগ আমার হয়েছিল, আলহামদুলিল্লাহ। ‘ইসলামিক’ শব্দটির ওজন উপরের প্রশ্নটি ছোঁড়ার আগে আমার প্রেজেন্টেশনে আমি একটি ভূমিকা দিয়েছিলাম। ‘ইসলামি ব্যাংকিং’ নামের মধ্যেই ‘ইসলামি’ শব্দটি একটি বড় জায়গাজুড়ে আছে, অর্থাৎ শরিয়াহসম্মত হওয়াটাই এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। এটি কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একটি দায়িত্ব নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা এবং কমিটমেন্ট। এই ভূমিকার পরই আমি চেয়ারম্যানদের সামনে সেই প্রশ্নটি রাখি: "Who is ultimately responsible for Shariah compliance in your bank?" এরপর তাদের ভিন্ন ভিন্ন উত্তরের পর আমি বিষয়টি স্পষ্ট করি, আন্তর্জাতিক শরিয়াহ গভর্ন্যান্স স্ট্যান্ডার্ডসমূহ অনুযায়ী চূড়ান্ত দায়িত্ব আসলে বোর্ড অব ডিরেক্টরসে বা পরিচালনা পর্ষদের, এবং এই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তার একটি গুরুদায়িত্ব। এটি কোনো সাধারণ দায়িত্ব নয়, এটি একটি আমানাহ, এবং একইসাথে একটি ওয়াজিব। পরিচালনা পর্ষদ বনাম শরিয়াহ বোর্ড: দায়িত্বের সীমারেখা সেশনের বাকি অংশে আমি এই কাঠামোটি তুলে ধরার চেষ্টা করি। বোর্ড অব ডিরেক্টরস চূড়ান্তভাবে দায়বদ্ধ। শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড (বা শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি) মূলত পরিচালনা পর্ষদকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়, অনেকটা একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো। পর্ষদ সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে এবং মূল দায়িত্বটি বহন করে। শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ডকে সহযোগিতা করে শরিয়াহ কম্প্লায়েন্স বা শরিয়াহ রিভিউ ফাংশন, আর এই পুরো প্রক্রিয়া কতটুকু সঠিকভাবে চলছে তা পরবর্তীতে যাচাই করে ইন্টারনাল শরিয়াহ অডিট। এই স্তরগুলো একসাথে মিলেই প্রকৃত শরিয়াহ কম্প্লায়েন্স নিশ্চিত হয়। চেয়ারম্যানের নির্দিষ্ট দায়িত্বগুলো নিয়েও আলোচনা করি, যেমন: বোর্ড লেভেলে শরিয়াহ কম্প্লায়েন্স ও গভর্ন্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং প্রতিটি বোর্ড মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলাদা এজেন্ডা রাখা; শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ডকে প্রয়োজনীয় রিসোর্স ও ক্ষমতা দেওয়া এবং তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; তাদের রুলিংস অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা; শরিয়াহ গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট পলিসি-প্রসিডিউর অনুমোদন করা; এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, একদম উপর থেকে, নেতৃত্ব পর্যায় থেকে, শরিয়াহ কম্প্লায়েন্সের টোন সেট করা ও ক্যাপাসিটি বিল্ড করা। ⁍⁍ শরিয়াহ বোর্ড পরিচালনা পর্ষদের কাছে যা চায় শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড মূলত পর্ষদের কাছ থেকে কয়েকটি জিনিস প্রত্যাশা করে: যথাযথ কর্তৃত্ব (proper authority), স্বাধীনতা (independence), এবং প্রয়োজনীয় তথ্যে প্রবেশাধিকার (access to information), যেমন ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট থেকে শুরু করে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম পর্যন্ত। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিসোর্স, সেক্রেটারিয়েট, গবেষণা টিম ইত্যাদি, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের IBRPD-র সংশ্লিষ্ট সার্কুলারে ইতিমধ্যে উল্লেখ আছে। দুঃখজনকভাবে এই বিষয়গুলো এখনো বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোতে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, ইন্টারনাল শরিয়াহ অডিট অ্যান্ড রিভিউ, ইন্টারনাল শরিয়াহ কম্প্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট, শরিয়াহ রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট এবং শরিয়াহ সেক্রেটারিয়েট, এই কাঠামোগুলো সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা এখনো বাকি রয়ে গেছে। ⁍⁍ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং: মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা পর্ষদের প্রথম দায়িত্ব নিজে শেখা। বোর্ড যদি নিজেই না জানে তার দায়িত্ব কী, তাহলে সে কখনোই তা সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না। এখানে আমি মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরি, সেখানে পর্ষদ সদস্যদের ইসলামিক ব্যাংকিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন বাধ্যতামূলক, তিনি মুসলিম হোন বা অমুসলিম। একইসাথে সঠিক ব্যক্তিদের সঠিক জায়গায় নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যারা ইসলামিক ব্যাংকিং ইউনিট পরিচালনা করবেন, তাদের ইসলামি ফাইন্যান্স বিষয়ক জ্ঞান থাকতে হবে। যারা শরিয়াহ বোর্ডে বসবেন, তাঁদের অবশ্যই ফিকহুল মুয়ামালাতে বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক ফাইন্যান্স সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। একইভাবে শরিয়াহ ফাংশনের সব ক্ষেত্রে, ইন্টারনাল শরিয়াহ অডিট, ইন্টারনাল শরিয়াহ কম্প্লায়েন্স, শরিয়াহ রিসার্চ, শরিয়াহ সেক্রেটারিয়েট, যোগ্য জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ডের সদস্যদের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির জন্য নানা প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। ⁍⁍ পরিচালনা পর্ষদ ও শরিয়াহ বোর্ডের মধ্যে সংলাপ সেশনে আমি জোর দিয়ে বলি, পর্ষদ এবং শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ডের মধ্যে যেন কোনো দূরত্ব তৈরি না হয়। সম্পর্কটি হওয়া উচিত সহযোগিতামূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ, যেখানে শরিয়াহ বোর্ড পর্ষদকে শরিয়াহ পরিচালনায় সহায়তা করে। বছরে অন্তত দুইবার উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়া এবং বোর্ড মিটিংয়ের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট নেওয়া, এই অভ্যাসগুলো অপরিহার্য। শরিয়াহ কম্প্লায়েন্স নিশ্চিত না হলে এটি শুধু রেপুটেশন বা সুনামের ক্ষতি করে না, বরং অপারেশনাল ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, এমনকি বড় পরিসরে আস্থার সংকট থেকে ব্যাংক-রানের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাই চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিটি বোর্ড মিটিংয়ে শরিয়াহ গভর্ন্যান্সের জন্য আলাদা এজেন্ডা রাখা, অডিট কমিটির মাধ্যমে শরিয়াহ অডিট রিপোর্টের যথার্থতা যাচাই করা, এবং শরিয়াহ কমিটির সাথে বছরে অন্তত দুইবার নিয়মিত বসা, এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলেই আমরা প্রকৃত অর্থে সফল হবো। এই আয়োজনের একটি ব্যক্তিগত ভালো লাগার মুহূর্তও ছিল। আমার পিএইচডি গবেষণার ভিত্তিতে লেখা বই *Shariah Governance of Islamic Crowdfunding* সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, এবং এই ওয়ার্কশপেই মাননীয় গভর্নর মহোদয় এবং উপস্থিত সকল চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সদস্যদের হাতে এক কপি করে বই উপহার দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। ⁍⁍ সেশন শেষে যা শুনলাম প্রশ্নোত্তর পর্বে একটি বড় ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, "আজকের এই সেশনে এসে আসলে আমাদের চোখ খুলে গেছে। আমরা দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইসলামি ব্যাংকিং করছি, কিন্তু এই বিষয়টা যে পরিচালনা পর্ষদেরই দায়িত্ব, তা হয়তো কখনো আমাদের মাথায় আসেনি। ইনশাআল্লাহ আজ থেকে আমরা এটা পরিপালন করব।" ইসলামিক ব্যাংকিং শুরু করছে এমন অন্য কয়েকটি ব্যাংকের বোর্ড চেয়ারম্যানও একই ধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এবং তাঁদের নতুন যাত্রায় শুরু থেকেই সঠিক শরিয়াহ গভর্ন্যান্স কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সদস্য অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি এবং পরবর্তীতে ইমেইলে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান, যা এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্যকে স্পষ্ট করে তোলে। ⁍⁍ একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট শরিয়াহ পরিপালনের দায়িত্ব যদি পর্ষদ নিজে গ্রহণ করে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত, এমনকি শরিয়াহ বোর্ডের নিজস্ব দায়িত্ব পালনও, অনেক বেশি সহজ ও সহযোগিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়ায় এসব চর্চা কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করে, যা আমাদের জন্যও একটি অনুকরণযোগ্য মডেল হতে পারে। আমাদের দেশেও যদি এসব চর্চা প্রতিষ্ঠিত করা যায়, পাশাপাশি AAOIFI ও IFSB-এর আন্তর্জাতিক গভর্ন্যান্স স্ট্যান্ডার্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণ করা যায়, তাহলে আমাদের শরিয়াহ পরিপালনের মান আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। গত বছর বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যায়ে একটি শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ড (SAB) গঠিত হয়েছে, যা দেশের কেন্দ্রীয় শরিয়াহ বোর্ড হিসেবে কাজ করছে, এবং একইসাথে ইসলামিক ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (IBRPD) গঠিত হয়েছে, যাদের কাজ ইসলামিক ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও প্রবিধান প্রণয়ন করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো শরিয়াহ গভর্ন্যান্সের প্রতি একটি ইতিবাচক দিকনির্দেশনা তুলে ধরছে। এ বছরের শুরুতে নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বিভিন্ন শরিয়াহ বোর্ড সদস্য ও আলেমদের সাথে বৈঠক করেন। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয় শরিয়াহ বোর্ড সদস্যদের জন্য, যেখানেও আমি বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেছিলাম। আর এবার আয়োজিত হলো বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিয়ে এই সংলাপ। আমাদের প্রত্যাশা, এই ধারা অব্যাহত থাকুক। বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স যেন পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ পরিপালনের পথে এগিয়ে যায় এবং বিশ্ব দরবারে একটি প্রতিষ্ঠিত ও অনুকরণীয় মডেল হিসেবে দাঁড়াতে পারে। লেখক: আলেম অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আওয়ার ইসলাম/জেডএম |