চট্টগ্রামে তিন দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে দোকানপাট
প্রকাশ: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের হাটবাজারসহ বাসাবাড়ি হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক স্থানে ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং পণ্য রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। একইভাবে বাসাবাড়ির বাসিন্দাদের আসবাবপত্র রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে ছিঁড়ে যায় বৈদ্যুতিক তার এবং কয়েক স্থানে ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ায় বিঘ্নিত হয় বিদ্যুৎ সেবা। রেললাইন কোথায় কোথায় ডুবে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এতে ভোগান্তি হয় যাত্রীদের। সমুদ্র উত্তাল থাকায় এর প্রভাবে ব্যাহত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমও। এছাড়া পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়কের একাংশ ভেঙে পড়ে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দীন বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট নগরে ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। এরপর গতকাল ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি। অর্র্থৎ গতকাল রেকর্ড হওয়া বৃষ্টি গত ৪২ বছরে সর্বোচ্চ। মাঝখানে অবশ্য ২০০৭ সালের ১১ জুন ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।

এদিকে ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে রেকর্ড হয় ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। ওই হিসেবে গতকাল ৪৩ বছরের মধ্যে জুলাই মাসে রেকর্ড হওয়া সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। তারপর চট্টগ্রামে জুলাই মাসে এত বৃষ্টি হলো।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার ও রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় রেকর্ড হয় ৩০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমি ধস হতে পারে। এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ও চট্টগ্রাম নদী বন্দরের জন্য ২ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম