দিল্লিতে জন্ম নেওয়া আব্দুর রহিমকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৭ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে জন্ম, বৈধ পরিচয়পত্র ও সরকারি নথি থাকার দাবি সত্ত্বেও একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণাটক হাইকোর্ট আপাতত ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে তার পরিচয় ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবদুর রহিম নামে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি ১৯৭৯ সালে দিল্লির নিউ সীমাপুরি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি বেঙ্গালুরুতে বসবাস করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার আইনজীবীর ভাষ্য, আবদুর রহিমের কাছে জন্মসনদ, ভারতীয় পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ডসহ একাধিক সরকারি নথি রয়েছে, যা তার ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবিকে সমর্থন করে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব নথি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ও বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দপ্তর (FRRO) তাকে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গত মার্চ মাসে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়।

পরবর্তীতে বিষয়টি কর্ণাটক হাইকোর্টে গড়ায়। আদালত আবদুর রহিমকে আপাতত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তার পরিচয় ও দাখিল করা সব নথি বিস্তারিতভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি একটি পুরোনো মামলার নথিও যাচাই করতে বলা হয়েছে।

আদালত স্পষ্ট করেছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার নাগরিকত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এবং যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা যাবে না।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে ভারতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি একজন ব্যক্তি জন্মসনদ, পাসপোর্ট, ভোটার আইডি ও আধারের মতো সরকারি নথি উপস্থাপন করেন, তাহলে সেগুলো যাচাই না করেই তাকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হলো কেন? সরকারি নথির তথ্য আগে যাচাই করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও, সেই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে আবদুর রহিমের নাগরিকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তার পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি ভারতে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আওয়ার ইসলাম/জেডএম