
|
প্রাথমিকে নূরানী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি সংসদে
প্রকাশ:
০৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নূরানী বা তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন করে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। বুধবার (৮ জুলাই) সংসদে এ দাবি উত্থাপন করেন অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা। তিনি নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সংসদ সদস্য। সংসদে বক্তব্যে অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। দেশের অধিকাংশ মুসলিম পরিবার তাদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শেখাতে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিপুলসংখ্যক মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য তাজবিদভিত্তিক ও বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা পাঠদান করা হলেও শুদ্ধ উচ্চারণ, মাখরাজ ও তাজবিদের নিয়ম অনুসরণ করে কোরআন শিক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই। ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেও শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে না। এ কারণে অভিভাবকদের অতিরিক্ত ব্যয়ে মক্তব, নূরানী শিক্ষা কেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত শিক্ষকের শরণাপন্ন হতে হয়। তিনি আরও বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের জন্য এ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কঠিন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে। সংসদ সদস্যের ভাষ্য, বর্তমানে নূরানী ও তালিমুল কোরআন পদ্ধতি শিশুদের শুদ্ধ কোরআন শিক্ষা প্রদানের একটি পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে দেশব্যাপী স্বীকৃত। এসব পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুদের বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত, তাজবিদ এবং মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করতে সক্ষম হন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নূরানী বা তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন করে শিক্ষক নিয়োগ করা হলে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়েই শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শেখার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আওয়ার ইসলাম/জেডএম |