মরহুম গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আবদুল আজিজের স্মৃতিচারণ করলেন শাইখ সুদাইস
প্রকাশ: ০৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর ধর্মীয় বিষয়ক প্রধান শাইখ আবদুর রহমান আস-সুদাইস প্রয়াত সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আবদুল আজিজ আলে আশ-শাইখ-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের স্মৃতিচারণ করেছেন।

শাইখ সুদাইস বলেন, ১৪৩৩ হিজরি (২০১২ সাল) থেকে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ধর্মীয় বিষয়ক দায়িত্ব গ্রহণের পর শাইখ আবদুল আজিজ আলে আশ-শাইখের সঙ্গে তাঁর বাস্তব কর্মসম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্সি সবসময়ই সৌদি ইফতা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে এবং শাইখ আলে আশ-শাইখকে তারা নেতা, পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করতেন। প্রেসিডেন্সির কার্যক্রম ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর মতামত ও দিকনির্দেশনা থেকে কখনও বিচ্যুত হননি।

তিনি জানান, প্রেসিডেন্সির সময়ে বিভিন্ন সমসাময়িক ফিকহি বিষয়ে গ্র্যান্ড মুফতির পরামর্শ নেওয়া হতো। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জুমার দ্বিতীয় আজানের সময় এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত।

শাইখ সুদাইসের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে পবিত্র মসজিদে প্রথম ও দ্বিতীয় আজানের মধ্যে কার্যত কোনো বিরতি থাকত না; প্রথম আজানের পরপরই ইমাম খুতবা শুরু করতেন। পরে এ বিষয়ে একটি গবেষণামূলক প্রস্তাব প্রস্তুত করে প্রথম আজানকে খুতবার প্রায় ৩০ মিনিট আগে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি রাজকীয় কর্তৃপক্ষ ও ইফতা বিভাগের অনুমোদনের পর কার্যকর হয়।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত সুন্নাহ এবং উসমান ইবন আফফান (রা.)-এর আমলের প্রচলিত পদ্ধতির অধিক নিকটবর্তী। পাশাপাশি মুসল্লিদের খুতবা ও জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার যথেষ্ট সময় নিশ্চিত হওয়ায় এটি মুসলিম বিশ্বের কাছেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

শাইখ সুদাইস আরও স্মরণ করেন, করোনা মহামারির সময় প্রেসিডেন্সি তারাবির নামাজ ২০ রাকাতের পরিবর্তে ১০ রাকাত করার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, যা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ও ফিকহি পর্যালোচনার পর অনুমোদন লাভ করে।

তিনি বলেন, সে সময় দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক ও শরিয়তভিত্তিক আলোচনা শেষে জনস্বার্থ বিবেচনায় ১০ রাকাত তারাবির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, যা মহামারিকালীন পরিস্থিতিতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়। সূত্র: হারামাইন আর্কাইভ

আওয়ার ইসলাম/জেডএম