
|
স্রষ্টার সান্নিধ্যই জীবনের পরম ছন্দ ও চূড়ান্ত ঠিকানা
প্রকাশ:
১১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৫ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| রাইহান || সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে প্রকৃতি তার আপন মহিমায় ছন্দবদ্ধ। সূর্যের উদয় থেকে চন্দ্রের অস্তমিত হওয়া, ঋতুর অবিরত পরিবর্তন কিংবা নদীর কুলকুল শব্দে বয়ে চলা—এ সবই এক শাশ্বত নিয়মের অনুগামী। এই মহাজাগতিক ছন্দে বিচ্যুতি নেই, ক্লান্তি নেই। অথচ এই নিখুঁত নিয়মের অভ্যন্তরে বাস করা শ্রেষ্ঠ জীব ‘মানুষ’ যেন আজ বড় বেশি ছন্দহীন ও উদভ্রান্ত। মানুষের অন্তর্জগৎ বড়ই বৈচিত্র্যময়। আমরা প্রায়ই ছোট ছোট বিষয়ে অসহিষ্ণু হয়ে উঠি; যেমন- রিকশাচালক বাড়তি ভাড়া চাইলে আমরা গালি দিয়ে নেমে যাই, কিন্তু ভুলে যাই তার সংসারের অভাবের কথা। ক্ষমতার দম্ভে অন্যের হক কেড়ে নেওয়া কিংবা তর্কের মারপ্যাঁচে সত্যকে আড়াল করা—এগুলোই আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জাগতিক বিশৃঙ্খলার ধুলোবালি ঝেড়ে যারা শুদ্ধতার পথ খোঁজে, তারাই প্রকৃত মানুষ। তারা যখন সিজদার নীরবতায় নিজেদের সঁপে দেয়, তখন জৈবিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে তারা আধ্যাত্মিক উচ্চতায় উন্নীত হয়। আর তখনই উপলব্ধি হয়—সিজদাই মানুষের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। আমি নিজেও এই ছন্দহীন মানুষদের একজন। কত রাত-বিরাত তর্কে আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুদ্ধে নিজেকে জ্ঞানী প্রমাণ করেছি! অথচ পাশের ঘরের অভুক্ত প্রতিবেশীটির খবর রাখিনি। জ্ঞানের অহংকারে ডুবে থেকে ভেবেছি আমিই সঠিক। মনে রাখতে হবে, যে জ্ঞান ক্ষুধার্তের পেট ভরাতে পারে না কিংবা অসহায় মানুষের চোখের পানি মুছতে পারে না, সেই জ্ঞান লাইব্রেরিতে সাজিয়ে রাখা লাশের মতো—যাতে কোনো প্রাণ নেই, আছে কেবল শুষ্ক পাণ্ডিত্য। আমরা রিজিকের সন্ধানে ছুটতে ছুটতে জীবনের মূল উদ্দেশ্যই বিস্মৃত হই। অথচ আল্লাহ সতর্ক করেছেন: `তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভক্ষণ করো না।‘ (সুরা বাকারা: ১৮৮) জীবনের এই নাট্যমঞ্চে প্রতিটি মুহূর্তই একটি পরীক্ষা। পৃথিবী একটা পরীক্ষার হল; সময় শেষ হলে খাতা টেনে নেওয়া হবে, তখন আর তওবার সুযোগ থাকবে না। আমাদের কর্মের প্রতিটি রেখাচিত্রই আমাদের গন্তব্য নির্ধারণ করছে। কেউ নিপীড়নের কালিতে নিজের ইতিহাস কলঙ্কিত করছে, আবার কেউ পুণ্যের আলোয় নিজেকে আলোকিত করছে। এখন সময় হয়েছে আত্মজিজ্ঞাসার। আমি কি তর্কে মত্ত নাকি আর্তের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত? আমি কি রিকশাচালককে গালি দেওয়া লোক নাকি তার মেয়ের ওষুধ কিনে দেওয়া লোক? স্রষ্টার দেওয়া ছন্দের সাথে নিজের জীবনকে মিলিয়ে নেওয়ার এই নিরন্তর ফিকিরই আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের একমাত্র পথ। কারণ দিনশেষে, স্রষ্টার সান্নিধ্যই মানুষের জীবনের পরম ছন্দ ও চূড়ান্ত ঠিকানা। লেখক: কবি, গদ্যকার ও চিন্তক আওয়ার ইসলাম/জেডএম |