ডেঙ্গুতে কখন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি?
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:০৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক 

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী সাধারণত বাড়িতে বিশ্রামে এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে জীবন সংশয়ের কারণ হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর ৩ থেকে ৭ দিনের মাথায় যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখন রোগটি সবচেয়ে জটিল পর্যায়ে (Critical Phase) প্রবেশ করে। এই সময়েই মূলত বিপজ্জনক লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। তাই ডেঙ্গু হলে কখন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি, তা প্রত্যেকেরই জেনে রাখা প্রয়োজন।

১. ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণসমূহ (Warning Signs)

শরীরে নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে বাড়িতে রাখার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:

তীব্র এবং অনবরত পেটে ব্যথা: সাধারণ ডেঙ্গুর চেয়ে এই ব্যথা অনেক তীব্র হয় এবং পেট স্পর্শ করলে শক্ত বা সংবেদনশীল মনে হয়।

অনবরত বমি হওয়া: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ বার বা তার বেশি বমি হলে অথবা মুখে কোনো তরল খাবার বা ওষুধ ধরে রাখতে না পারলে।

যেকোনো ধরনের রক্তক্ষরণ: দাঁতের মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, কাশির সাথে রক্ত আসা, কালো রঙের মল বা পায়খানা হওয়া কিংবা নারীদের ক্ষেত্রে অসময়ে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হওয়া।

শ্বাসকষ্ট: দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুকে চাপ অনুভব করা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া—যা ফুসফুসে পানি জমার লক্ষণ হতে পারে।

চরম দুর্বলতা ও মানসিক পরিবর্তন: রোগী তীব্র ক্লান্তিবোধ করলে, হাত-পা ঠাণ্ডা ও ফ্যাকাসে হয়ে গেলে, অতিরিক্ত ছটফটানি করলে বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হলে।

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া: একটানা ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রস্রাব না হওয়া তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ।

২. ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্টের তারতম্য

রক্ত পরীক্ষায় নিম্নোক্ত পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়:

প্লাটিলেট (Platelet) দ্রুত কমে যাওয়া: রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট খুব দ্রুত কমতে থাকা (বিশেষ করে ৫০,০০০/µL এর নিচে নেমে যাওয়া)।

হেমাটোক্রিট (Hematocrit) বৃদ্ধি: রক্তে হেমাটোক্রিটের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০%-এর বেশি বেড়ে যাওয়া, যা রক্তনালী থেকে প্লাজমা বা তরল উপাদান বের হয়ে যাওয়ার (Plasma Leakage) প্রমাণ।

৩. উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগী (High-Risk Groups)

কোনো রোগীর যদি উপরে উল্লেখিত বিপজ্জনক লক্ষণগুলো নাও থাকে, তবুও কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ামাত্রই হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণ করা নিরাপদ:

  • গর্ভবতী নারী
  • নবজাতক, শিশু এবং প্রবীণ বা বয়স্ক ব্যক্তি
  • দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা লিভারের জটিলতা, ওবেসিটি (অতিরিক্ত ওজন) এবং হৃদরোগী।
  • দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী: যারা আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ বা ‘শক সিনড্রোম’-এর ঝুঁকি বেশি থাকে।

একটি জরুরি সতর্কবার্তা

ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়া মানেই রোগ মুক্তি নয়, বরং এটি অনেক সময় বিপদের শুরু হতে পারে। এই সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন: আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন, নেপ্রোক্সেন ইত্যাদি) কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার (খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, জুস) পান করতে হবে এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতায় দ্রুত হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হবে।

এসএইচ/