
|
‘জামায়াত আমাদের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল’
প্রকাশ:
০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
কক্সবাজার প্রতিনিধি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম বলেছেন, লাখো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি শাসন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এসব সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিতে বারবার বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও দুঃখের বিষয়। রোববার (৪ অক্টোবর) কক্সবাজার ঈদগাহ ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পীর চরমোনাই বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখো মানুষ অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন দেশ ও লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের আমলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা তৈরি হবে। বৈষম্য, অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। কিন্তু এখনো সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘আমরা যখন একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তখন জামায়াতে ইসলামীর একটি ভূমিকা আমাদের দুঃখ দিয়েছে। তারা আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে তা সম্ভব হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতে চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক মানবিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।’ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম বলেন, ‘আমরা তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ গড়তে চাই—মানবিক মর্যাদা, সহমর্মিতা ও ইনসাফ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ কক্সবাজারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ জেলায় অনেক বড় বড় আলেম-ওলামা রয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি অসংখ্য মানুষের সমর্থন রয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ ও সমর্থনের কারণেই কক্সবাজারের এ সমাবেশ ব্যাপক জনসমাগমে পরিণত হয়েছে। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। আইও/ |