পৌনে ৬ কোটি টাকার সড়কে কাজ এগিয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ, মানববন্ধনে স্থানীয়রা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

মুস্তাকিম আল মুনতাজ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:

পৌনে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় কাদাপানি ও খানাখন্দে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর, বিষামনি ও মোহাজেরাবাদ এলাকার বাসিন্দারা। দ্রুত ও টেকসইভাবে সড়ক নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ‘পিচের মুখ’ এলাকায় (গ্র্যান্ড সুলতান সংলগ্ন) ‘বালিশিরা পাহাড় সর্বস্তরের জনগণ ও এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রাধানগর, বিষামনি ও মোহাজেরাবাদ এলাকার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা অংশ নেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও কাদাপানি জমে আছে। কোথাও কোথাও সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে মুমূর্ষু রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সড়কটির দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক সংস্কার না হওয়ায় সময়মতো চা-পাতা কারখানায় নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে চা-বাগান মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাধানগরের আনারস ও লেবু চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত সড়ক নির্মাণকাজ শেষ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করে শেষ করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, মূল কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড় খানাখন্দগুলো জরুরি ভিত্তিতে ভরাট করা এবং প্রধান সড়ক বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিকল্প পথগুলো দ্রুত মেরামত করা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কের সমস্যা সমাধানে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাঁরা কার্যকর সমাধান পাননি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাঁরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ (প্রোপ্রাইটর—মেহেদী হাসান চৌধুরী) প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনের কাজ পায়। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৫ এপ্রিল কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে কাজ শুরুর কিছুদিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব বলেন, প্রকল্পের মাত্র ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা জমা না দিলে জামানত বাজেয়াপ্তসহ তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে বিকল্প প্রক্রিয়ায় বাকি কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে যান চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত সড়কটির খানাখন্দ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

আইও/