২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোটা বাড়িয়ে ৬ হাজার করা হলো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩০ সকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত কয়েক বছর ধরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৩ সালে সরকারি ব্যবস্থায় ১০ হাজার ৩৬০ জন হজে গেলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৪ হাজার ৫৬২ জনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে কিছুটা বেড়ে ৫ হাজার ২০০ হলেও ২০২৬ সালে আবার কমে ৪ হাজার ৫৬৫ জনে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা বাড়িয়ে ৬ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত বাংলাদেশের মোট হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৫০০ জন হজে যেতে পারবেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের হজ প্রস্তুতি-সংক্রান্ত নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে ৭১টি হজ এজেন্সি ২৮টি লিড এজেন্সির অধীনে সমন্বিতভাবে হজ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নির্ধারিত কোটার বাইরে বিভিন্ন লিড এজেন্সির কাছ থেকে আরও ১৬ হাজার ৮৩৩ জন হজযাত্রীর নিবন্ধনের চাহিদা পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত এসব হজযাত্রীর জন্য সৌদি সরকারের কাছে কোটা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

কোটা বাড়ানো সম্ভব হলে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট হজযাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৯৬ হাজার হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থায় হজযাত্রীর সংখ্যা ২০২৩ সালেই ছিল সর্বোচ্চ। ওই বছর বাংলাদেশের মোট হজ কোটা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় ১০ হাজার ৩৬০ জন হজে যান।

পরের বছর বাংলাদেশের মোট হজ কোটা কমে ৮৫ হাজার ২৫৭ জনে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থার হজযাত্রীর সংখ্যাও কমে ৪ হাজার ৫৬২ জনে নেমে আসে।

২০২৫ সালে মোট ৭৯ হাজার ৫০০ হজযাত্রীর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় হজে যান ৫ হাজার ২০০ জন। আর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মোট হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন হলেও সরকারি ব্যবস্থায় হজে যান মাত্র ৪ হাজার ৫৬৫ জন। বিপরীতে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থায় হজ পালন করেন। অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থায় হজযাত্রীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৭৯৫ জন, যা প্রায় ৫৬ শতাংশ।

২০২৭ সালের হজের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং অন্য প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি দলকে সৌদি আরব সফরের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজ নিয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ৮ নভেম্বর সই হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজের ভিসা ইস্যু শুরু হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে হজের প্রথম ফ্লাইট ৮ এপ্রিল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নিবন্ধন শেষে চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এরপর সৌদি অংশের অর্থ পরিশোধ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ, টিকা, প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।

আইও/