কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা, উদ্ধার ২৩ ভারতীয় নাবিক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৫৯ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে গেছে। জাহাজটিতে থাকা ২৩ জন নাবিকই ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। হামলার পর তাদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটেছে।

রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে এখনো সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও আগুন নেভানোর অভিযান শুরু করবেন দমকলকর্মীরা।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্যাঙ্কারটিতে ‘নৌ-ড্রোন’ ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। হামলার পর জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল কৃষ্ণ সাগরের পানির ওপর আগুন নিয়ে জ্বলতে দেখা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন নগরী সোচির কাছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই শহরের আকাশে হামলার পর কালো ধোঁয়ার ঘন কুণ্ডলী দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে সমুদ্রের ওপর তীব্র কমলা রঙের আগুনের শিখাও দেখা গেছে।

সোচির মেয়র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপকূল ও সমুদ্রসৈকতের কয়েকটি এলাকায় মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার ঘটনায় একজন ভারতীয় ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন। তবে জাহাজে থাকা বাকি নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার একদিন আগেই রোমানিয়ার উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজে আগুন লেগে সেটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণ সাগর এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার উপকূলের কাছে ইউক্রেনীয় পণ্যবাহী শস্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে তাদের হামলা মূলত ইউক্রেনের শহর ও জনপদে রাশিয়ার ধারাবাহিক রাতের হামলার জবাব।

দুই দেশই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। এরই মধ্যে রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানোর পাশাপাশি দিনের বেলাতেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা শুরু করেছে। এর ফলে কিয়েভে তীব্র যানজট ও স্বাভাবিক জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে।

এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার পর সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়া, সৈকত বন্ধ করে দেওয়া এবং কালো ধোঁয়া ও দূষণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

কৃষ্ণ সাগরকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বাড়তে থাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইও/