নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বায়তুল মোকাররমের খতিব হননি শায়খ আহমাদুল্লাহ
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন আলোচিত ইসলামী বক্তা ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। সেই দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হওয়ার প্রস্তাব এলেও একই পথে হাঁটেন তিনি। দেশের অন্যতম শীর্ষ দুটি ধর্মীয় ও প্রশাসনিক পদ ফিরিয়ে দেওয়ার পেছনের মূল কারণ হিসেবে মানুষের কাছে দেওয়া নিজের একটি প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন এই ইসলামী চিন্তাবিদ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শায়খ আহমাদুল্লাহ এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি জানান, ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে যখন তাকে ফোন করা হয়, তখন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই বিশাল দায়িত্বের জন্য তিনি প্রস্তুত নন। বরং তিনি নিজেই ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন এবং সরকারের কাছে তার সিভি পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ডক্টর খালিদ হোসেন ধর্ম উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

তবে এখানেই শেষ নয়। নতুন খতিব নিয়োগের সময় খোদ ধর্ম উপদেষ্টা ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা শায়খ আহমাদুল্লাহকে বায়তুল মোকাররমের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সরকারের বাইরে থেকেও অনেকে তাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শায়খ আহমাদুল্লাহ বিনয়ের সাথে সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার দীর্ঘমেয়াদি মিশন ও সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি আদর্শ বহুমুখী মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে কথা দিয়েছিলেন, এই মসজিদে তিনি নিজেই জুমার নামাজ পড়াবেন। তার এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই সাধারণ মানুষ মসজিদ নির্মাণে অনুদান দিয়েছেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষায়, তিনি যদি বায়তুল মোকাররমের দায়িত্ব নিতেন, তবে সাধারণ মানুষের সাথে করা তার ওই কমিটমেন্ট ভেঙে যেত। তিনি তার নির্মিত মসজিদটিকে কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং সমাজের বহুমুখী কল্যাণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। যেখান থেকে মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে।

তার মতে, দেশের বা মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সরকারি পদ বা কোনো বড় দায়িত্বে থাকাটা অপরিহার্য নয়। একজন মানুষ তার নিজের অবস্থান থেকেই সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে একটি দীর্ঘমেয়াদি মিশন হিসেবে নিয়ে মানুষের পাশে থাকার সেই লক্ষ্যেই স্থির থাকতে চান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

আইও/