
|
স্থানীয় নির্বাচনে চাঁদাবাজ-নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বর্জন করুন: পীর সাহেব চরমোনাই
প্রকাশ:
০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৪৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধোঁকাবাজ, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বর্জন করে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল ’২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারই এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শ্রমব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। শ্রমিকদের মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধোঁকাবাজ, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বর্জন করতে হবে। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীলদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অটোরিকশাচালকদের প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, তাঁদের ওপর জুলুম-নির্যাতন না করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চালানোর সুযোগ করে দিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা ও অধিকার রক্ষা করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতো নয়। অন্যত্র চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সংগঠনটি শ্রমিকদের আদর্শিকভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দ্রুত শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, দেশব্যাপী ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে সরকারের প্রতি মানুষের তিক্ততা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় সরকারও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ অতীতে ৮২টি শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে কাজ করেছে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সমাজের সর্বস্তরের শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়সংগত পাওনা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল থেকে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। নতুন কমিটিতে মুহাম্মাদ খলিলুর রহমানকে সভাপতি, কে এম বিল্লাল হোসাইনকে সহসভাপতি এবং এইচ এম রফিকুল ইসলামকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করা হয়। এসএইচ/ |