
|
পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা
প্রকাশ:
১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৫ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও দেয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান লিখেছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর পশ্চিম তীরের মিখমাস গ্রামের ওই মসজিদে এ হামলা চালানো হয়। এতে মসজিদের ভেতরের কার্পেট পুড়ে গেছে এবং দেয়াল কালো হয়ে গেছে। এ সময় একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মসজিদ থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি বাসিন্দা আত্তা কানান এএফপিকে বলেন, বুধবার মধ্যরাতের পরপরই তিনি কাচ ভাঙার শব্দ শুনতে পান। এরপর তিনি মসজিদের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মসজিদে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডাকা হয়। স্থানীয় তরুণেরাও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। পুরো মসজিদে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাঁরা আগুনের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মসজিদে গ্রাফিতি আঁকা, অগ্নিসংযোগ এবং একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর মিখমাসে সেনা পাঠানো হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এএফপির ভিডিও ফুটেজে মসজিদের ভেতরের পুড়ে যাওয়া কার্পেট ও কালো হয়ে যাওয়া দেয়াল দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, মসজিদের বাইরের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্লোগানে লেখা ছিল, ‘আমরা চুপ করে আছি মানে এই নয় যে ঘুমিয়ে পড়েছি।’ আত্তা কানান জানান, বসতিস্থাপনকারীরা গ্রামের ঘরবাড়িতেও আগুন দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সম্প্রতি গ্রামবাসীরা রাতের পাহারার জন্য দল গঠন করেছিলেন। বিশেষ করে গ্রামের শেষ প্রান্তের বাড়িগুলো নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। রামাল্লাহ ও জেরুজালেমের মধ্যবর্তী পশ্চিম তীরের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে মিখমাস গ্রামের অবস্থান। এর কাছাকাছি কয়েকটি ইসরায়েলি বসতি রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বসতির বাসিন্দারা গত কয়েক মাসে একাধিকবার এলাকার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিন ন্যাশনাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট রুহি ফাততু। তিনি ঘটনাটিকে ‘বর্বর কাজ’ এবং বসতিস্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদের বিপজ্জনক বৃদ্ধি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিন ন্যাশনাল কাউন্সিল ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) সংসদ হিসেবে কাজ করে। এসএইচ/ |