
|
হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে পণ্য কেনাবেচার শরয়ি বিধান
প্রকাশ:
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ও মেলায় অংশগ্রহণ এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করার বিধান নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষত হিন্দুদের পূজামণ্ডপ বা ধর্মীয় মেলায় পুতুল, খেলনা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করা কিংবা সেখান থেকে পণ্য কেনার বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা জানা প্রয়োজন। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করা এবং সেখানে দোকান বসানোর বিষয়টি সাধারণ বাণিজ্যিক মেলায় ব্যবসা করার মতো নয়। ধর্মীয় উৎসবের এমন আয়োজন, যেখানে শিরক, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শরিয়তবিরোধী কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে অংশগ্রহণ করা এবং আয়োজনটির জাঁকজমক বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা থেকে মুসলমানদের বিরত থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ‘স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর তুমি জালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসে থেকো না।’ (সূরা আল-আনআম, আয়াত: ৬৮) ইমাম জাসসাস রহ. তাঁর আহকামুল কোরআন গ্রন্থে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় অন্যায়কারীদের সঙ্গে এমনভাবে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন, যা তাদের অন্যায় কাজের প্রতি সম্মতির প্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে, সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, কাবাঘর আক্রমণ করতে আসা একটি বাহিনীকে ভূমিতে ধসিয়ে দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে এমন লোকও থাকবে, যারা ওই অভিযানের উদ্দেশ্যে বের হয়নি; বরং নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজে সেখানে উপস্থিত ছিল। আয়েশা রা. এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ ﷺ জানান, তাদের সবাইকে ধসিয়ে দেওয়া হবে, এরপর কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২১১৮) ইবনু হাজার আসকালানি রহ.-এর ফাতহুল বারিসহ হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে এ ধরনের বর্ণনা থেকে অন্যায় ও ফিতনার সমাবেশে অপ্রয়োজনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। তবে হাদিসটির মূল প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ত বিবেচনায় রাখা জরুরি। ধর্মীয় উৎসবে দোকান বসানোর বিধান হানাফি ফিকহের একাধিক গ্রন্থে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে তাদের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইমদাদুল আহকাম গ্রন্থে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, হিন্দুদের মেলা ধর্মীয় হলে সেখানে অংশগ্রহণ করা এবং দোকান নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তবে সাধারণ বাণিজ্যিক মেলা হলে সেখানে কেনাবেচা করা বৈধ, যদি অন্য কোনো শরিয়তবিরোধী কাজে জড়িত হতে না হয়। গ্রন্থটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্মীয় মেলায় কেনাকাটার বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। কেউ নিষেধ করেছেন, আবার কেউ বলেছেন, কোনো পণ্য সাধারণ প্রয়োজনের জন্য কেনা হলে এবং তা বিশেষভাবে ওই ধর্মীয় উৎসবের কারণে কেনা না হলে অবকাশ রয়েছে। তবে ধর্মীয় মেলার জাঁকজমক বৃদ্ধির আশঙ্কায় এ ধরনের কেনাকাটা থেকেও বিরত থাকাকে অধিক সতর্কতাপূর্ণ বলা হয়েছে। সুতরাং, হিন্দুদের পূজার মতো ধর্মীয় উৎসবে দোকান বসিয়ে পণ্য বিক্রি করার পরিবর্তে এ ধরনের আয়োজন এড়িয়ে চলাই উচিত। বিশেষত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় এমন সামগ্রী বিক্রি করা কিংবা উৎসবের ধর্মীয় কার্যক্রমে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণ খেলনা ও পণ্য বিক্রির বিধান পুতুল, খেলনা, খাবার ও অন্যান্য পণ্যের বিধান নির্ভর করে সেগুলোর ব্যবহার, বিক্রির উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজনের প্রকৃতির ওপর। কোনো পণ্য সাধারণভাবে বৈধ হলেই তা সব পরিস্থিতিতে বিক্রি করা সমানভাবে উপযুক্ত হয়ে যায় না। আবার কোনো অমুসলিমের কাছে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে—শুধু এ কারণে সাধারণ বৈধ পণ্য বিক্রি হারাম হয়ে যায় না। অমুসলিমদের সাধারণ বাণিজ্যিক মেলায় হালাল পণ্য কেনাবেচা করা জায়েজ, যদি সেখানে অন্য কোনো হারাম কাজে অংশগ্রহণ করতে না হয়। তবে ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করা কিংবা উৎসবের ধর্মীয় কার্যক্রমে সহায়তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন: ধর্মীয় উৎসবে সাধারণ পণ্য বিক্রির বিধান এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রী বিক্রির বিধান এক নয়। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করা জরুরি। অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে সাধারণ বাণিজ্যিক মেলায় হালাল পণ্য কেনাবেচা করা জায়েজ, যদি তাতে কোনো শরিয়তবিরোধী কাজে অংশগ্রহণ করতে না হয়। ধর্মীয় উৎসবে সাধারণ পণ্য বিক্রির নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিধান জানতে হলে সংশ্লিষ্ট আয়োজন ও পণ্যের ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত। তথ্যসূত্র: এসএইচ/ |