
|
প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া ভালো?
প্রকাশ:
২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম খরচ এবং উচ্চমানের প্রোটিনের কারণে অনেকেই সকালের নাশতা কিংবা দিনের অন্য সময়ে ডিম খেতে পছন্দ করেন। সেদ্ধ, ভাজি কিংবা অমলেট—বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় এই খাবারটি। ডিমে থাকা প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম, চোখের স্বাস্থ্য এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সচল রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ? বেশি ডিম খেলে কি রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়? আর ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়াই কি বেশি উপকারী? এসব প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক। ডিমের কুসুমে খাদ্যগত কোলেস্টেরল থাকে। তবে খাবার থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল সবার রক্তে একই মাত্রায় প্রভাব ফেলে না। অন্যদিকে, খাবারে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট থাকলে তা রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। এ কারণে প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া হচ্ছে, শুধু সেটি বিবেচনা করলেই চলবে না। ডিমের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারের ধরন, রান্নার পদ্ধতি এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যের অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ডিম খাওয়ার উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা ১. পেশি গঠন ও শরীরের ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে ডিমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এ কারণে এটি উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের ভালো উৎস। প্রোটিন পেশি গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে। এ ছাড়া প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হতে পারে। ফলে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতেও ডিম ভূমিকা রাখতে পারে। ২. মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে ডিমের কুসুমে রয়েছে কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম, স্নায়ুতন্ত্রের কাজ এবং স্মৃতিসংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্যও কোলিন গুরুত্বপূর্ণ। ৩. চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে ডিমের কুসুমে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো চোখের রেটিনায় জমা হয় এবং চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের কিছু সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে ডিমসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে। ৪. প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে ডিমে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন এ-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এগুলো স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম, হাড়ের স্বাস্থ্য, দৃষ্টিশক্তি এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে ডিম একাই শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এজন্য খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও রাখা জরুরি। বেশি ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বেড়ে যায়? ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় এটি নিয়ে অনেকের উদ্বেগ রয়েছে। তবে ডিম খাওয়া এবং হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক একক কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তির সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং জীবনযাপনের ধরনও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া সাধারণত সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কিছু মানুষের রক্তে খাদ্যগত কোলেস্টেরলের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যাঁদের রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি, পারিবারিকভাবে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ডিম খাওয়ার পরিমাণ সম্পর্কে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে শুধু ডিমের দিকে নজর না দিয়ে অতিরিক্ত তেল, মাখন, ঘি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ডিমের সাদা অংশ, নাকি পুরো ডিম—কোনটি বেশি উপকারী? ডিমের সাদা অংশে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। এতে ফ্যাট ও কোলেস্টেরলের পরিমাণও খুব কম। তাই যাঁরা ক্যালরি বা ফ্যাট গ্রহণ সীমিত রেখে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য ডিমের সাদা অংশ ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে, ডিমের কুসুমে রয়েছে কোলিন, ভিটামিন ডি এবং লুটেইনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। শুধু সাদা অংশ খেলে এসব উপাদানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাদ পড়ে যায়। তাই সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ না থাকলে শুধু সাদা অংশ খাওয়ার জন্য কুসুম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাদা অংশ ও কুসুম মিলিয়ে পুরো ডিম খেলে তুলনামূলক বিস্তৃত পুষ্টি পাওয়া যায়। ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে যা মনে রাখা জরুরি ডিম পুষ্টিকর হলেও এটি কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল বা মাখন দিয়ে ডিম ভাজার পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম কিংবা অল্প তেলে রান্না করা ডিম বেছে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের ভারসাম্য রাখা দরকার। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। সব মিলিয়ে, প্রতিদিন একটি আস্ত ডিম অনেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ উপযুক্ত নয়। সুস্থ থাকতে ডিমের পরিমাণের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। সূত্র: এনডিটিভি এনএইচ/ |