
|
‘গত ১৬ বছরে দেশে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে, দুর্নীতিবাজদের বিচার ধীরে ধীরে হবে’
প্রকাশ:
২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৪৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
গত ১৬ বছরে দেশে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যারা অন্যায় ও দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বিচার ধীরে ধীরে করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অতীতে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে স্পিকারকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। সম্প্রতি আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশ তাঁর বাসা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলেও বক্তব্যে অভিযোগ করেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচনী এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে হামলা করা হয়েছিল। লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করছেন। বিরোধী দলও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অন্যায়কারীদের বিচারের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি। আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তানজানিয়ায় বিশ্বের ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তাঁকে এ অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে নির্বাচিত হননি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং বাংলাদেশের মর্যাদার বিষয়। নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ৪০ বছর ধরে তিনি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য রাজনীতি করছেন। লালমোহন ও তজুমদ্দিনে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদেরও তিনি জানিয়েছেন, কেউ অপকর্ম করে পার পাবেন না। সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করা হবে না। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত জেলেরা যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রাণসামগ্রী বিতরণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সালিশ-বিচারের নামে দুই পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। মানুষ আইন, থানা ও আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবে। কারও জমি দখল করা হলে তাঁকে বিষয়টি জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ঢাকায় আসার লঞ্চভাড়াও তিনি দেবেন। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্পিকার বলেন, লালমোহন ও তজুমদ্দিনে তিনি মাদক দেখতে চান না। কোনো নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাঁকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি এলাকায় সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। স্পিকার আরও বলেন, ব্যক্তিগত তদবিরে তাঁকে ব্যস্ত না রেখে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দিতে চান। আইও/ |