আস-সুন্নাহর সহায়তায় মেহেদীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজি সংকটে একসময় নিজের টেইলরিং শপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন মেহেদী হাসান। জীবিকার তাগিদে কাজ করতেন অন্যের দোকানে। অনিয়মিত কাজ আর সীমিত আয়ে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। তবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আবারও নিজের দোকান চালু করেছেন তিনি। এখন তাঁর দোকানে কাজ করছেন আরও দুজন।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বাসিন্দা মেহেদী হাসানের পোশাক কাটিং ও সেলাইয়ের কাজে অভিজ্ঞতা প্রায় ১২ বছরের। শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, জুব্বা থেকে শুরু করে থ্রি-পিস—বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরিতে দক্ষ তিনি। মাটিরাঙ্গা ও চট্টগ্রামে সিনিয়র কারিগর এবং কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করে সুনামও অর্জন করেছিলেন।

তবে পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে একসময় নিজের দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অন্যের দোকানে উৎপাদনভিত্তিক কাজ শুরু করেন তিনি। ঈদের মৌসুম ছাড়া বছরের অন্য সময় কাজের অভাবে আয় কমে যেত। এতে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতেও হিমশিম খেতে হতো তাঁকে।

এমন পরিস্থিতিতে মেহেদী হাসানের পাশে দাঁড়ায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির ‘দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্প’-এর আওতায় তাঁকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এ অর্থ দিয়ে সেলাই মেশিন, লক মেশিন, দোকানের সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সামগ্রী সংগ্রহের সুযোগ পান তিনি।

ফাউন্ডেশনের সহায়তায় মাটিরাঙ্গায় আবারও নিজের টেইলরিং শপ চালু করেন মেহেদী হাসান। বর্তমানে তাঁর দোকানে একজন বেতনভুক্ত কারিগর কাজ করছেন। পাশাপাশি আরেকজন নতুন কর্মী তাঁর কাছ থেকে কাজ শিখছেন।

দোকানের সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমানে মাসে গড়ে ১৬ হাজার টাকা আয় করছেন মেহেদী। এতে পরিবারের আর্থিক সংকট অনেকটাই কেটেছে। পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসাও নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারছেন তিনি।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে মেহেদী হাসানের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরেন।

দক্ষতা, পরিশ্রম ও যথাযথ সহযোগিতা পেলে একজন মানুষ যে প্রতিকূলতা পেরিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, মেহেদী হাসানের এই গল্প তারই উদাহরণ। একই সঙ্গে নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন আরও দুজন মানুষের জীবিকার অবলম্বন।

 এমএম/