মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত 
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৪৪ রাত
নিউজ ডেস্ক

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক 

মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আর মসজিদে নববীতে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের বিষয়। কেননা, মসজিদে নববীতে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে অন্য মসজিদে এক হাজার নামাজ আদায়ের চেয়ে বেশি সওয়াব লাভ হয়। তবে মসজিদে নববীতে অবস্থানের জন্য শরিয়তের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়নি।

হজের সময় অনেক হাজি মদিনা মুনাওয়ারায় সফর করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় করা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা মোবারকে গিয়ে সালাম পেশ করা। এটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয়।

তবে মদিনায় আট দিন অবস্থান করাকে অনেকে এমনভাবে জরুরি মনে করেন, যেন শরিয়তের পক্ষ থেকে এ মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। এ ধারণা সঠিক নয়। আট দিন অবস্থানের জন্য নিজের, সফরসঙ্গীদের কিংবা কাফেলার দায়িত্বশীল ব্যক্তির ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা এবং কষ্টের কারণ হওয়া উচিত নয়।

চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজের হাদিস

মসজিদে নববীতে একটানা চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে একটি বর্ণনা রয়েছে। মুসনাদে আহমদ (৩/১৫৫) ও তাবারানিতে (হাদিস ৫৪৪) বর্ণিত এ রেওয়ায়েত অনুযায়ী, কেউ মসজিদে নববীতে ধারাবাহিকভাবে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে তার জন্য জাহান্নামের আজাব ও নিফাক থেকে মুক্তির ঘোষণা রয়েছে।

এ বর্ণনাকে কেন্দ্র করেই অনেকের মধ্যে মদিনায় আট দিন অবস্থানের ধারণাটি প্রচলিত হয়েছে। কারণ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হিসেবে আট দিনে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ পূর্ণ হয়। তবে হাদিসটির সনদ দুর্বল বলে মুহাদ্দিসদের অনেকে উল্লেখ করেছেন। তাই এর ভিত্তিতে আট দিন অবস্থানকে শরিয়তের অপরিহার্য বিধান হিসেবে গণ্য করা যায় না।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদিস রয়েছে, যা জামে তিরমিজিতে (হাদিস ২৪১) বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে চল্লিশ দিন জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং প্রথম তাকবিরে (তাকবিরে উলা) শরিক হবে, তার জন্য দুটি মুক্তির ঘোষণা লেখা হবে—একটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির এবং অন্যটি নিফাক থেকে মুক্তির।

এ হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট মসজিদে চল্লিশ দিন নামাজ আদায়ের শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ বর্ণনার আলোকে বোঝা যায়, জামাতে নামাজ আদায়ের এ ফজিলত শুধু মসজিদে নববীর সঙ্গে নির্দিষ্ট নয়।
দুর্বল হাদিসের ভিত্তিতে কি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করা যায়?

ফজিলত-সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্বল হাদিস গ্রহণের ব্যাপারে মুহাদ্দিস ও ফকিহদের মধ্যে কিছু শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনের আলোচনা রয়েছে। তবে দুর্বল হাদিসের ভিত্তিতে শরিয়তের নতুন কোনো বিধান প্রতিষ্ঠা করা কিংবা কোনো আমলের জন্য নির্দিষ্ট সময়, সংখ্যা বা মেয়াদ বাধ্যতামূলক করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তাই মসজিদে নববীতে আট দিন অবস্থান করে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার সুযোগ হলে তা ভালো। কিন্তু এটিকে এমন জরুরি বিধান মনে করা উচিত নয়, যার কারণে হাজি সাহেবকে নিজে কষ্ট পেতে হবে, সফরসঙ্গীদের অসুবিধায় ফেলতে হবে কিংবা কাফেলার দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে মনোমালিন্যে জড়াতে হবে।

আমাদের করণীয়

মসজিদে নববীতে যত দিন অবস্থানের সুযোগ হয়, সে সময়টুকু যথাসম্ভব কাজে লাগানো উচিত। বিশেষ করে মসজিদে নববীতে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, ইবাদতে মনোযোগী হওয়া এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।

মনে রাখতে হবে, ইবাদতের ফজিলত অর্জনের আগ্রহ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে কোনো আমলের ফজিলত অর্জনের জন্য নির্ধারিত নয় এমন সময় বা সংখ্যাকে শরিয়তের বাধ্যতামূলক বিধান মনে করা উচিত নয়। বরং শরিয়তের নির্দেশনা মেনে, অন্যের প্রতি কষ্ট সৃষ্টি না করে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদত করাই কাম্য।

সূত্র: আলকাউসার

এসএইচ/