শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলার পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জাতীয় শিক্ষক ফোরামের দিন-রাত দুই শিফটে কাজ করবেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা: ডিএনসিসি প্রশাসক বিভ্রাটের প্রায় একঘণ্টা পর সচল ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার আমি ক্ষমতায় থাকতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না: নেতানিয়াহু  হিল্লা বিয়ে ইসলামের নিকৃষ্ট অপব্যাখ্যা: শায়খ আহমাদুল্লাহ শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা  কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঢাকাসহ দেশের ১৩ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস প্রাথমিকে ‘সংগীত-নৃত্যের সিদ্ধান্ত’ বাতিলের দাবি ছাত্র জমিয়তের

কী অপরাধ করেছিল আমার ছেলে?‌‌‌‌

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) হত্যাকাণ্ডের পর নিঃস্ব ও শোকাহত তার পরিবার। প্রিয় সন্তানের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা মো. হাসান জামিল। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলছেন,
"কী অপরাধ করেছিল আমার ছেলে? কী অন্যায় করেছিল সে? আমি তো কারও ক্ষতি করিনি। তোমরা আমার ছেলেকে ফেরত দাও!"

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের এই পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় নিহত তুহিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা মেলে তার পিতার এই আহাজারির।

ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে হাসান জামিল বলেন,
"পরশুদিন সে আমার জন্য ওষুধ কেনার টাকা পাঠিয়েছিল। এখন কে ওষুধ পাঠাবে? কে আমার খোঁজ রাখবে?"

ছেলের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুলও। বলেন,
"পরশু মোবাইলে নাতিদের সঙ্গে কথা বলিয়েছিল, বলেছিল ভালো থেকো। কে জানতো এটাই শেষ কথা হবে! আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেললো, কী দোষ ছিল তার?"

বড় বোন রত্না বেগম ছুটে এসেছেন ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে। ভাইয়ের লাশ দেখতে গিয়ে বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
"আমার ভাই আমার কোলে বড় হয়েছে। ও তো কারও ক্ষতি করেনি, কেন মানুষ হয়ে মানুষকে এভাবে মেরে ফেললো?"


তুহিনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম বলেন,
"যারা ওকে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই। তারা মানুষ না, অমানুষ। কেউ কী এমন করে মানুষ খুন করে?"

ভাগ্নে আবু রায়হান বলেন,
"মামা ভালো মানুষ ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করতেন। আমরা তার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

তুহিন ছিলেন একাধারে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। তার বড় ভাই জসিম উদ্দিনের সঙ্গে গাজীপুর চৌরাস্তায় থেকে কাজ শুরু করেন। তবে ২০০৯ বা ২০১০ সালে বড় ভাই জসিম ক্যান্সারে মারা যান। এরপর থেকে তুহিন ও তার ছোট ভাই সেলিম সেখানে বসবাস করতে থাকেন।

তাদের অপর দুই ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম টেকনাফে এবং শাজাহান মিয়া সিলেটে বসবাস করছেন। দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় গ্রামে বৃদ্ধ বাবা-মা একা থাকেন। তারা দু’জনেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। ছেলেরা পালাক্রমে তাদের দেখভাল করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তুহিনের মরদেহ বর্তমানে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় রয়েছে। আজ বাদ জোহর সেখানে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। এরপর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এসএকে/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ