শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ।। ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের আসামে ভয়াবহ বন্যা, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার পাশে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল কুবিতে শায়খে চরমোনাই, জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া লন্ডনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শিক্ষা সফর জুলাই অভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনই ছিল সক্রিয়: পীর সাহেব চরমোনাই মসজিদে নববীর কুরআন শিক্ষক শায়খ কারিম হাসুনার ইন্তেকাল আয়া সোফিয়ায় পুনরায় নামাজ শুরুর ছয় বছর পূর্তিতে এরদোগানের বার্তা ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মারুফ, সেক্রেটারি শরীয়াতুল্লাহ সাভারে চাঁদা দাবির জেরে পুলিশ-সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি

শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস চালু করা ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’: জামায়াত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে দেশের মহানগরগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালু করা ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’। যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অপরিণামদর্শী ও অনভিপ্রেত। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা জাতিকে মেধাশূন্য করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

তিনি আরও বলেন, অনলাইন নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য বহুমুখী ক্ষতির কারণ হতে পারে। উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট সুবিধার কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভাইস আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং নিয়মিত লেখাপড়ার অভ্যাসও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কোভিড-১৯ সময়ের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’ এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি পিছিয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপে অনলাইন ক্লাস চলাকালে ঝরে পড়া ও শিশুশ্রম বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জটিলতা ও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। এমন বাস্তবতায় আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে না।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি জ্বালানি সংকট থেকেই থাকে, তবে অন্যান্য খাত সচল রেখে কেন শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ