বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

বৃষ্টি ভেজার দিন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি : সংগৃহীত

যাকারিয়া মাহমুদ ।। 

বৃষ্টি ভেজার প্রথম দিন । আমি তখন ছোট। নরম গায়ে কোমল বৃষ্টির ছোঁয়া। কোমল সেই অনুভূতি। আমি কখনোই ভুলতে পারিনি। ভুলতে চাইও না। ভালোলাগে সেই স্মৃতি। অনুভূতি। খুব ভালোবাসি সেই দিনটিকে।

সেদিন চারদিকে যখন শীতল হাওয়ার ছড়াছড়ি। মাথার উপর ঘন, কালো, বিস্তৃত মেঘরাশি। ভর-দুপুরেও নেমে এলো সন্ধ্যার আঁধার । আমি তখন আনন্দে আত্মহারা । আম্মার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছুটে যাই কড়ইতলায়। আমাদের বাড়ির কাছেই।

কড়ইতলায় বহু মানুষের ভিড়। ছোটদের ছোটাছুটি। এখানে-ওখানে বড়দের গল্পের আসর।

আমি ছুটে চলি ঘাসফড়িং আর প্রজাপতির পিছু পিছু। যখন ওদের ধরতে যাই, ওরা উড়ে যায়। বাতাসে ডানা মেলে। কখনো-বা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আমার হাত ওদের ধরতে পায় না। তবু সুখ খোঁজে পাই সেই পিছু ছোটায়।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু। অনেকেই দৌঁড়ে ওঠে ঘরে। ভেজার ইচ্ছে নেই তাদের। আমি ভিজি আপন মনে। আমার সঙ্গে আরও ছেলেমেয়ে। সবাই সমবয়সী। আমরা হাসি, খেলি, ভিজি। সবাই মিলে । একসঙ্গে। বড়রা ভেজে ভিন্ন দলে।

বৃষ্টি পড়ে রিমঝিম। ঝুমূর-ঝুমূর। টিনের চাল গড়িয়ে আসে বৃষ্টির স্বচ্ছ জল। একসঙ্গে অনেকগুলো ঝরনার মতো। আমরা তার নিচে খুশি মনে ভিজি। লাফিয়ে লাফিয়ে। দাঁড়িয়ে। বসে।

কাদামাটিতে পিছলে খাই। একজন "ধপাশ" করে পড়ে গেলে, খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে সবাই। দুষ্টমি করি। কাদা-পানি ছুড়ে দিই একে-অপরের গায়ে। এ নিয়ে ঝগড়াও হয়। খানিক পরেই মিটে যায় সব রাগ-অভিমান।

এদিকে বূষ্টিতে ভেজার সুখ। ওদিকে ঘরে ফেরার তাড়া। এতক্ষণে নিশ্চই খোঁজে ফিরছেন মা।

পা টিপে টিপে ঘরে ফিরি। বাড়তে থাকে বুকের ধুকপুকানী। কোনোরকমে আম্মার চোখ এড়াতে পারলেই হয়। পারি না । ব্যর্থ হই। দৌড়ে লুকোই আপার পেছনে।

শৈশবে এমন অনেক দিন ছিল। সুখে ভরপুর সেই দিনগুলো, স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে আজও। হৃদয়ে খুব ইচ্ছে জাগে। যদি ফিরে যাওয়া যেত সেই সুখ- শৈশবে!

লেখক : শিক্ষার্থী, মারকাযুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া, উত্তর বাড্ডা,ঢাকা-১২১২। 

এমআর/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ