উবায়দুল হক খান
প্রকৃতির মাঝে কিছু সৃষ্টি এমন আছে, যেগুলো শুধু চোখে দেখা নয়, হৃদয়ে অনুভবের বিষয়। তেমনি এক অপরূপ সৃষ্টি হলো—বৃষ্টি। বৃষ্টি যেন আকাশের বুক চিরে নেমে আসা আল্লাহর এক অপূর্ব রহমত, যা প্রকৃতিকে করে তোলে সজীব, হৃদয়কে করে স্পর্শিত এবং মনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে এক ধরণের প্রশান্তি। আকাশ যখন মেঘে ঢেকে যায়, বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক অজানা গন্ধ—তখনই বুঝি, বৃষ্টি আসছে।
সেই প্রথম ফোঁটার মাটিতে পড়া মানেই প্রকৃতির ঘ্রাণে মন ভরে ওঠা। কৃষকের মুখে তখন হাসি, কারণ আল্লাহর এই বৃষ্টি ফসলের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। মাটি পায় তার প্রাণ, বৃক্ষরাজি পায় নতুন জীবন, আর জনজীবন পায় স্বস্তির পরশ। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে বারবার উল্লেখ করেছেন বৃষ্টির কথা—যে কীভাবে তিনি মৃত ভূমিকে জীবিত করেন বৃষ্টির মাধ্যমে। এ এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা। পানির ফোঁটা ফোঁটা জমে গড়ে তোলে স্রোত, নদী, হাওর-বাওর। খরা কবলিত ভূমিতে এনে দেয় নবজীবন। বৃষ্টির শব্দ যেমন স্নিগ্ধতা আনে, তেমনি তার সৌন্দর্য মুগ্ধ করে মন। শিশুদের কাছে বৃষ্টি যেন আনন্দের উৎসব—ছোট ছোট নাচ, কাদামাটি মাখামাখি। কবিদের কলমে বৃষ্টি পায় এক ভিন্ন রূপ—কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো নিঃসঙ্গতা, আবার কখনো মুক্তির বারতা।