আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা তাঁর নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. জারা পেশাদার রাজনীতিকদের চিরাচরিত ধারার বাইরে এসে নাগরিক অধিকার ও জনসেবা নিশ্চিতের একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
ঢাকা-৯ আসনকে অবহেলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি তাঁর ইশতেহারে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবার দৈন্যদশা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন।
ইশতেহারের শুরুতেই ডা. জারা ঢাকা-৯ এলাকার মানুষের নিত্যদিনের গ্যাস সংকট নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, নির্বাচিত হয়ে সংসদে তাঁর প্রথম কাজ হবে ‘সেবা না দিলে বিল নেই’ (No Service, No Bill) শীর্ষক খাসড়া আইন প্রস্তাব করা। তিতাস গ্যাস দিতে না পারলে বিলও নিতে পারবে না—এমন কঠোর বিধান চালুর পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভেঙে ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া রাস্তা কাটাকাটি নিয়ে ঠিকাদারদের জন্য সুনির্দিষ্ট ডেডলাইন ও জরিমানার বিধান রাখার কথা বলেছেন।
একজন পেশাদার চিকিৎসক হিসেবে ডা. জারা স্বাস্থ্যখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজের ওপর চাপ কমাতে প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিক ‘মিনি হাসপাতালে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এছাড়া ডেঙ্গু মোকাবিলায় কেবল মৌসুমী তৎপরতা নয়, বরং বছরব্যাপী সক্রিয় ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠনের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এলাকার নিরাপত্তাহীনতা ও মাদক সিন্ডিকেট নির্মূলে ‘নিরাপদ করিডোর’ গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এই প্রার্থী। তিনি জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজ ও অন্ধকার অলিগলিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যাম্পপোস্ট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসে সংরক্ষিত আসন এবং কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালুর কথা বলা হয়েছে তাঁর ইশতেহারে।
শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ডা. জারা বলেন, স্কুল ভর্তিতে কোনো ‘এমপি কোটা’ বা সুপারিশ থাকবে না। ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করে কেবল মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করবেন তিনি। এছাড়া সরকারি বরাদ্দে স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, কোডিং ল্যাব এবং মানসিক স্বাস্থ্য চর্চার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে একটি স্থায়ী কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. জারা। জনগণের অভিযোগের বর্তমান অবস্থা ট্র্যাকিং করার জন্য একটি ‘ডিজিটাল ওপেন ড্যাশবোর্ড’ চালু করার পরিকল্পনা তাঁর ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
ইশতেহারের শেষে ডা. তাসনিম জারা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গড়তে রাজনীতিতে এসেছেন। ঢাকা-৯ আসনের ভাগ্য বদলাতে এবং গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে প্রকৃত জনসেবা নিশ্চিত করতে তিনি ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছেন।
আরএইচ/