বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ ।। ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৭ জিলহজ ১৪৪৭


ভারতের পুশইনের মতো বর্বরতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিন: গাজী আতাউর রহমান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী-শিশুসহ ১৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা এবং সীমান্ত এলাকায় শতাধিক মানুষকে জড়ো করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৩ জনকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে সীমান্তের সাদিপুর গ্রামের বোম্বে তলা এলাকার শূন্যরেখার কাছে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে আরও ১০০ থেকে ১১০ জনকে জড়ো করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি উত্থাপন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আওতায় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে এতদিন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি আর শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়; এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা সংকটের ভার বহন করছে। তাই নতুন করে কোনো মানবিক বা শরণার্থী সংকটের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই। আজ কয়েকজনকে পুশইন করা হচ্ছে বলে বিষয়টিকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। সম্ভাব্য বৃহত্তর সংকট মোকাবেলায় সরকারকে এখনই দ্রুত, কার্যকর ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র আরও বলেন, যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করে থাকে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফেরত পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। বাংলাদেশ এ ধরনের অমানবিক আচরণ কখনোই মেনে নিতে পারে না।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ