আওয়ার ইসলাম: মিশরের প্রখ্যাত ইসলামি গবেষক মুহাম্মাদ ইমারাহ গতকাল শনিবার ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মরহুমের পুত্র খালিদ ইমারাহ জানান, কয়েকদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন তার বাবা। পরে স্থানীয় সময় শনিবার তিনি ইন্তেকাল করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে খালিদ লেখেন, বিগত তিন সপ্তাহ অসুস্থতায় ভুগছিলেন তার পিতা। ইন্তেকালের আগের দিনগুলোতে খুব স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন তিনি। শয্যাশায়ী থাকাকালীন পরিবারের ছোটবড় সবাইকে কাছে ডেকে গল্প করতেন। নাতি-নাতনি ও প্রিয়জনদের কল্যাণের প্রতি উপদেশ দিয়ে গেছেন। ইন্তেকালের আগমুহূর্তে তিনি সবার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।
খালিদ ইমারাহ জানান, তার পিতা তার বিরুদ্ধাচারণকারীদেরও ক্ষমা করার কথা উল্লেখ করে গেছেন। ইন্তেকালের আগে তিনি জানিয়েছেন, তার মনে কারও প্রতি কোন বিদ্বেষ ও ঘৃণা নেই; সবাইকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
https://www.facebook.com/AJA.Egypt/photos/a.219439745105731/1221938311522531/?type=3&theater
মিশরের প্রখ্যাত এই ইসলামি ব্যক্তিত্ব পরিবারের নিকট নিজের শেষ কিছু ইচ্ছার কথা জানান। সেগুলো হল-
‘যদি তোমাদের পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে পৃথিবীর যেকোন শহরেই হোক- অনেক মানুষের উপস্থিতিতে আমার জানাজার ব্যবস্থা করবে।
আমার আকাঙ্খা, প্রতিটি মুসলমান আমার জানাজা পড়ুক আর আমার জন্য দোয়া করুক।
আমার চেতনা বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে ব্যপক প্রসারের ব্যবস্থা করবে। আমার কিতাব, বক্তৃতা, প্রবন্ধ ও লেকচার ইত্যাদির মাধ্যমে সবাইকে দাওয়াত দিবে।’
কে এই মুহাম্মাদ ইমারাহ?
মুহাম্মাদ ইমারাহ বহুপ্রতিভাবান একজন মনীষা ছিলেন। একাধারে তিনি ইসলামি গবেষক, লেখক ও সফল লেকচারার। তিনি ১৯৩১ সালে মিশরের কুফর আল শেইখ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। সাত বছর বয়সে কুরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১৯৬৫ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর আরবিভাষা ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে ইসলামিক দর্শনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করতে সমর্থ হন।
জীবদ্দশায় তিনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আল-আজহারের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সদস্য ছিলেন মুহাম্মাদ ইমারাহ। আল-আজহার ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
[caption id="" align="alignnone" width="738"]