মিডিয়াকর্মী হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, কওমি ধারার আলেমদের মতো বৃহৎ একটি কমিউনিটির মিডিয়া সমর্থন প্রায় শূন্যের কোটায়। যাও পাওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার স্বার্থের জন্য; বস্তুনিষ্ঠতার জন্য নয়। আরও দুঃখের কথা হলো- আলেমদের অনেক রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সংস্থা কার্যকর থাকার পরও বৈরী মনোভাবাপন্ন কোনো মিডিয়ার সমর্থন আনতে পারেনি।
আগ বাড়িয়ে কোনো মিডিয়া তাদের সমর্থনে এগিয়ে গেলেও আলেমদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, সমর্থন মেলেনি। মিডিয়ার ক্ষেত্রে তাদের অনেকটা গুটিয়ে থাকার নীতি পরিলক্ষিত হয়। তবে ব্যক্তি পরিচয়ে দু-চার লাইন খবর প্রকাশ, এক দুই মিনিট কাভারেজ আর সামগ্রিক সমর্থন কিন্তু আলাদা জিনিস। এই পার্থক্যটুকু আলেমরা অনুধাবন যত দ্রুত করবেন, তত মঙ্গল।
আরো পড়ুন- দিন শেষের সত্য কথা: আমাদের কোনো মিডিয়া নেই
আমি এ কথা বলব না, আলেমদের মধ্যে সমাজে প্রভাব বিস্তার করে মিডিয়া প্রতিষ্ঠার মতো সামর্থ্যবান কেউ নেই। এটা মনে করারও কোনো কারণ নেই। যে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে বিনা খরচায় আলেমরা শিক্ষিত করে তুলছেন, হাজার হাজার মাদরাসা-মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করছেন- সেখানে তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।
তাহলে মিডিয়া হচ্ছে না কেন? সরল উত্তর- প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আর উদ্যোক্তার অভাব। এক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, সেগুলো হলো- অন্যকে আস্থায় আনতে না পারা, সত্যিকারভাবেই মিডিয়ার প্রয়োজন না বোঝা ও বিরোধীপক্ষের সমালোচনা সইতে না পারার ক্ষমতা।
গত এক দশকের মিডিয়া জগত পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বন্ধ হওয়া একটি দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেল রাজপথের আন্দোলনে আলেমদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক নয়াদিগন্ত ও দৈনিক ইনকিলাব জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থী ঘরানার বলে পরিচিত।
তারাও সময়ে-অসময়ে আলেম-উলামাদের রাজপথের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু আলেমদের কোনো যৌক্তিক দাবি-দাওয়ার বিষয়ে তারা নিজেদের পলিসির বাইরে কোনো নিউজ করেনি। এ বিষয়ে জনমত প্রভাবিত করার মতো কোনো সংবাদ, মতামত ও লেখনি তারা প্রকাশ কর