বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করুন: মুফতি ওযায়ের আমীন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: সৌদি আরব, মিশর, তুরস্কসহ বহির্বিশ্বের ভার্সিটিগুলোতে কওমি মাদরাসা ছাত্রদের ভর্তির জন্য (মুআদাল) চুক্তি সম্পন্ন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকের পক্ষ থেকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি টিম গঠন করে বহির্বিশ্বের সেই ভার্সিটিগুলোর সাথে চূড়ান্ত যোগাযোগ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ি জামেয়া রাহমানিয়া দারুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মুফতি ওযায়ের আমীন।

তিনি বলেন, এমনিতেই বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা ছাত্ররা ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশোনার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারিভাবে বিষয়টি সুরাহা না হওয়ার কারণে দেওবন্দে পড়ার জন্য তাদেরকে অনেক কঠিন ত্যাগ তিতিক্ষা পোহাতে হয়। হাইয়াতুল উলইয়া কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে দুই দেশের যোগাযোগের মাধ্যমে দেওবন্দের পড়ার বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক আইনসিদ্ধ করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথমত মুআদালা টিম ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সেই রাষ্ট্রগুলোর দূতাবাসের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পাদন করতে পারেন। এরপর সরাসরি সেইসব ভার্সিটিগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আশা করা যায় বহির্বিশ্বের ভার্সিটিগুলোতে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা ছাত্ররা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারবে।

এতে একদিকে কওমি মাদরাসা ছাত্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করবে। যা দেশের জন্য, দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য এবং কওমি মাদরাসার এলেম ও আমলের প্রসারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকের প্রতি জোর দাবি জানাই, তারা যেন এই বিষয়ে এখনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মাওলানা হারুন ইসলামাবাদী প্রায় দেড় যুগ আগে একক প্রচেষ্টায় পটিয়া মাদরাসারকে রিয়াদ কিং সউদ ইউনিভার্সিটির সাথে মুআদালা করেছেন। এখন কি আমাদের মাঝে একজন হারুন ইসলামাবাদী নেই? কেন থাকবে না? আশা করি মুরুব্বীরা সুদুরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। মাদরাসার ছাত্রদের উন্নয়নে আমাদের কেন্দ্রীয় বোর্ড অবদান রাখবেন। এটা আমাদের কওমি মাদরাসা প্রজন্মের দাবি।

মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা মামুনুল হক সহ দেশ-বিদেশে পরিচিত ও বরেণ্য সাত (৭) সদস্য বিশিষ্ট মুআদালা কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন ভার্সিটিতে উচ্চ ডিগ্রিধারী কওমি মাদরাসা সাবেক ছাত্রদেরকে দিয়ে একটি সহযোগী টিম গঠন করা যেতে পারে। চট্টগ্রাম দারুল মা'রিফের সাবেক সিনিয়র মুহাদ্দিস, বর্তমান কিং সাউদ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গবেষক মাওলানা আবদুস সালাম, মদিনা ইউনিভার্সিটির মাওলানা শরীফ আহমদ, আল-আজহার ইউনিভার্সিটির মাওলানা আসাদুজ্জামান সহ আরো অনেকে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে আল-জামিয়াতুল ইসলামি‌য়া পটিয়া মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সার্টিফিকেট দিয়ে কিং সাউদ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির আবেদন করা যায়। এ বিষয়ে ১৪২৪ হিজরীতে চূড়ান্ত মূ'য়াদালাহ-চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। এই চুক্তিপত্র এখনও বলবৎ আছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ