খাদিজা ইসলাম: সুস্থ দেহেই সুন্দর মনের বিকাশ হয়। শরীর সুস্থ রাখতে হলে মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের যত্ন নেওয়া জরুরি।এটি ছাড়া জীবন অচল। আমাদের গাফিলতির কারণেই শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গ ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে আসে। অথচ চাইলেই আমরা শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গের যত্ন নিতে পারি। কেননা শরীর ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না। ফলে তার প্রভাব আমাদের বাস্তব জীবনে বিরূপ ক্ষতি সাধন করে। তাই আসুন জেনে নিই শরীর সুস্থ রাখতে কিছু অত্যাবশ্যকীয় বিষয়-
হৃৎপিন্ডের যত্ন নিতে হবে। যা খেলে হ্রদ পিন্ড ভালো থাকে সেগুলো খেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষেজ্ঞ ডা. বেথ অলিভার বলেন, ‘প্রতিদিন, প্রতিবেলায় বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি এবং যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার, পানি, আপেল ও আখরোট, সূর্যমুখী ফুলের বিচি, ডাল এবং ডিমের হলুদ অংশ খান। এগুলো হৃিদপিন্ডের জন্য খুবই উপকারী খাবার।
কিডনি ঠিক রাখুন খেলাধুলা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ডায়াবেটিস রোধ করে। কারণ ডায়াবেটিস থেকেই কিডনির নানা সমস্যা দেখা দেয়। ফলমূল, শাক-সবজি, ফাইবার ইত্যাদি খেয়ে ওজন ঠিক রাখা প্রয়োজন। লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত, কারণ অতিরিক্ত লবণ কিডনির ক্ষতি করে। কিডনি পরিষ্কার রাখতে দিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন।
হাড়ের যত্ন নিন হাড় শক্ত রাখতে নিয়মিত শরীর চর্চা বা বিশেষ ধরনের ব্যায়াম বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। হাড় নরম বা ভেঙে যাওয়ার জন্য শুধু বয়স বাড়াই একমাত্র কারণ নয়। থাইরয়েড, পেটের ক্রনিক সমস্যা বা পাকস্থলির অসুখের কারণেও হাড় নরম বা ক্ষয় হতে পারে। আর পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত ধূমপান ও নানা ধরনের ওষুধপত্র সেবন হাড়কে নরম করতে পারে।
পেট ঠিক রাখুন মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ অন্ত্র বা পেট, যা লম্বায় প্রায় ৮ মিটার। শরীরের গ্রহণ করা খাবারগুলো সহজপাচ্য বস্তুতে পরিণত করে অন্ত্র। সেখানে সমস্যা দেখা দিলে সবই ওলট-পালট মনে হয়। তাই শরীরকে ফিট রাখতে হলে অবশ্যই পেট ঠিক রাখতে হবে। তাই হাঁটাচলা, শস্যদানা, বিচি, সাদা দই, শাক-সবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার গ্রহণ খুবই দরকার।
রোদে বেশিক্ষণ নয় তারুণ্য ধরে রাখতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জুড়ি নেই। ফাস্ট ফুড, স্ট্রেস, অতিরিক্ত টেনশন, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি ত্বক নষ্ট করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই রোদ থেকে দূরে থাকা উচিত। শরীর ও মন ভালো এবং ফিট রাখার জন্য শরীরের ভেতরের মতো শরীরের ত্বকের স্বাস্থ্যও ভালো থাকা প্রয়োজন।