শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ।। ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৩ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
গাজীপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ১১ বসতঘর হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২ আগামীকাল বায়তুল মোকাররমে জুমা-পূর্ব আলোচনা করবেন আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বন্যাদুর্গতদের জন্য জুলাইয়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের উদ্যোগ হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের তফসিল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রেরণের নির্দেশ ইসির ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে’  ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩০৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

রান্নার মাধ্যমে ব্রাজিলের সেরা রাঁধুনীর ইসলাম প্রচার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: লেবানিজ-ব্রাজিলিয়ান মুসলিম নারী সামাইরা ঘানম ২০১৫ সালে রান্না বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘বেক অব ব্রাজিল’র সেরা রাঁধুনী হয়েছিলেন। পুরো ব্রাজিলে তিনি এখন বেশ পরিচিত। ১৩ সপ্তাহব্যাপী হওয়া সেই অনুষ্ঠানটি লাতিন আমেরিকার ২০টি দেশের লাখ লাখ মানুষ দেখেছিল।

‘আরব বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবে এই প্রতিযোগিতাটি জিততে পারায় আমি খুব খুশি,’ বলেন তিনি। প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্বে একটি বিয়ের কেক তৈরি করা জন্য তিনি মাত্র দুই ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন। এই প্রতিযোগিতাটি লাখ লাখ মানুষ দেখেছিল এবং যেটি অনেককে ইসলাম ও আরব সংস্কৃতি সম্পর্কে শিখিয়েছে।

ঘানম সাও পাওলোতে তার লেবানিজ স্বামী ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে বাস করেন। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগে তিনি তার পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য আরবীয় কেক ও মিষ্টি তৈরি করতেন। ‘আমি সব সময় মিষ্টি জাতীয় জিনিস তৈরি করতে ভালোবাসি,’ বলেন তিনি।

‘আমি আমার মেয়েদের জন্মদিন উপলক্ষে কেকে ও মিষ্টি বানাতাম। আর যখন তাদের বান্ধবীরা এটি দেখল তখন তারাও তাদের জন্য কেক তৈরি করে দেয়ার জন্য বায়না ধরা শুরু করল।’ ২০১৫ সালে ‘বেক অব ব্রাজিল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য ঘানমের নাম নিবন্ধন করে দেয় তার এক মেয়ে।

তিনি স্মরণ করেন, এটি ছিল খুবই কঠিন একটি প্রতিযোগিতা। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সক্ষমতা তার ছিল।

এই প্রতিযোগিতার উপস্থাপক, তিসিয়ানা ভিলাস বোয়াস ও বিচারকরা ইউওএলকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সামিরা এই শিরোপা জয়ের দাবিদার ছিল। এত প্রতিযোগীর মধ্যে তার সবচেয়ে কম ভুল হয়েছিল। এবং সবচেয়ে মজাদার খাবার তৈরি করেছিল। তিনি যেন বিধাতার কোনো ‍উপহার নিয়ে জন্মেছেন এবং তার হাত প্রকৃতই একজন রাঁধুনীর হাত। এটা পরিষ্কার যে, তিন সবকিছু ভালোবাসা ও দায়িত্ব নিয়ে করেছেন।

এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের মাধ্যমেই সামাইরা ঘানমের জীবনের ছোট্ট পর্বটি শেষ হয়ে যায়নি। তিনি রান্নাবান্নার দিক দিয়ে ব্রাজিলের মুসলিম নারীদের একজন আইকনে পরিণত হন।

‘আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে, আমার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে অন্য নারীদের জীবন পাল্টে যেতে পারে। আমি দেখেছি, অনেক মুসলিম মেয়ে আমাকে দেখে এখন নিজেরাই বেকার ও কনফেকশনার হয়ে গেছে।’

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগে ঘানম প্রযোজক ও বিচারকদের বলেছিলেন, একজন মুসলিম হিসেবে তিনি রান্নার উপাদান হিসেবে সবকিছু ব্যবহার করতে পারবেন না। চূড়ান্ত পর্বে রান্নার উপাদান হিসেবে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি প্রতিযোগিতাটিতে হারার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও।

‘একজন মুসলিম হিসেবে আমি যা করার চেষ্টা করি এটি তাহলে তার বিরুদ্ধে যেত,’ বলেন তিনি। ‘আমি রান্নায় কখনো এমন কোনো উপাদান ব্যবহার করি না, যেটি ইসলামে নিষিদ্ধ।’

যে ইতালিয়ান শেফ সেই কেক তৈরির উপাদান ঠিক করে দিয়েছিলেন তাকে বিচারকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই কেক তৈরিতে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে হয় কি না। তখন সেই শেফ বলেন, ‘পেশাদার রাঁধুনীরা এই কেক তৈরির উপাদান হিসেবে অ্যালকোহল ব্যবহার করেন না।’ সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ