বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ‘ক্রসফায়ারের’ নিয়ে আইজিপি বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে ভালো ঘুমের জন্য যে ফলগুলো খাবেন হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৫) প্রেসিডেন্টের অনুমতিতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে মিশর সৌদি আরবের দুই শহরে জরুরি সতর্কতা জারি   ‘নির্বাচনের আড়ালে চাপা পড়ছে ইসরায়েলের অপরাধ’

রান্নার মাধ্যমে ব্রাজিলের সেরা রাঁধুনীর ইসলাম প্রচার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: লেবানিজ-ব্রাজিলিয়ান মুসলিম নারী সামাইরা ঘানম ২০১৫ সালে রান্না বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘বেক অব ব্রাজিল’র সেরা রাঁধুনী হয়েছিলেন। পুরো ব্রাজিলে তিনি এখন বেশ পরিচিত। ১৩ সপ্তাহব্যাপী হওয়া সেই অনুষ্ঠানটি লাতিন আমেরিকার ২০টি দেশের লাখ লাখ মানুষ দেখেছিল।

‘আরব বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবে এই প্রতিযোগিতাটি জিততে পারায় আমি খুব খুশি,’ বলেন তিনি। প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্বে একটি বিয়ের কেক তৈরি করা জন্য তিনি মাত্র দুই ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন। এই প্রতিযোগিতাটি লাখ লাখ মানুষ দেখেছিল এবং যেটি অনেককে ইসলাম ও আরব সংস্কৃতি সম্পর্কে শিখিয়েছে।

ঘানম সাও পাওলোতে তার লেবানিজ স্বামী ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে বাস করেন। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগে তিনি তার পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য আরবীয় কেক ও মিষ্টি তৈরি করতেন। ‘আমি সব সময় মিষ্টি জাতীয় জিনিস তৈরি করতে ভালোবাসি,’ বলেন তিনি।

‘আমি আমার মেয়েদের জন্মদিন উপলক্ষে কেকে ও মিষ্টি বানাতাম। আর যখন তাদের বান্ধবীরা এটি দেখল তখন তারাও তাদের জন্য কেক তৈরি করে দেয়ার জন্য বায়না ধরা শুরু করল।’ ২০১৫ সালে ‘বেক অব ব্রাজিল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য ঘানমের নাম নিবন্ধন করে দেয় তার এক মেয়ে।

তিনি স্মরণ করেন, এটি ছিল খুবই কঠিন একটি প্রতিযোগিতা। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সক্ষমতা তার ছিল।

এই প্রতিযোগিতার উপস্থাপক, তিসিয়ানা ভিলাস বোয়াস ও বিচারকরা ইউওএলকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সামিরা এই শিরোপা জয়ের দাবিদার ছিল। এত প্রতিযোগীর মধ্যে তার সবচেয়ে কম ভুল হয়েছিল। এবং সবচেয়ে মজাদার খাবার তৈরি করেছিল। তিনি যেন বিধাতার কোনো ‍উপহার নিয়ে জন্মেছেন এবং তার হাত প্রকৃতই একজন রাঁধুনীর হাত। এটা পরিষ্কার যে, তিন সবকিছু ভালোবাসা ও দায়িত্ব নিয়ে করেছেন।

এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের মাধ্যমেই সামাইরা ঘানমের জীবনের ছোট্ট পর্বটি শেষ হয়ে যায়নি। তিনি রান্নাবান্নার দিক দিয়ে ব্রাজিলের মুসলিম নারীদের একজন আইকনে পরিণত হন।

‘আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে, আমার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে অন্য নারীদের জীবন পাল্টে যেতে পারে। আমি দেখেছি, অনেক মুসলিম মেয়ে আমাকে দেখে এখন নিজেরাই বেকার ও কনফেকশনার হয়ে গেছে।’

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগে ঘানম প্রযোজক ও বিচারকদের বলেছিলেন, একজন মুসলিম হিসেবে তিনি রান্নার উপাদান হিসেবে সবকিছু ব্যবহার করতে পারবেন না। চূড়ান্ত পর্বে রান্নার উপাদান হিসেবে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি প্রতিযোগিতাটিতে হারার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও।

‘একজন মুসলিম হিসেবে আমি যা করার চেষ্টা করি এটি তাহলে তার বিরুদ্ধে যেত,’ বলেন তিনি। ‘আমি রান্নায় কখনো এমন কোনো উপাদান ব্যবহার করি না, যেটি ইসলামে নিষিদ্ধ।’

যে ইতালিয়ান শেফ সেই কেক তৈরির উপাদান ঠিক করে দিয়েছিলেন তাকে বিচারকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই কেক তৈরিতে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে হয় কি না। তখন সেই শেফ বলেন, ‘পেশাদার রাঁধুনীরা এই কেক তৈরির উপাদান হিসেবে অ্যালকোহল ব্যবহার করেন না।’ সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ