বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ‘ক্রসফায়ারের’ নিয়ে আইজিপি বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে ভালো ঘুমের জন্য যে ফলগুলো খাবেন হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৫) প্রেসিডেন্টের অনুমতিতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে মিশর সৌদি আরবের দুই শহরে জরুরি সতর্কতা জারি   ‘নির্বাচনের আড়ালে চাপা পড়ছে ইসরায়েলের অপরাধ’

হাদীস অস্বীকারকারীদের প্রমাণ ও তার জবাব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আব্দুর রহিম: হাদীস অস্বীকারকারীরা সর্ব প্রথম তাদের দলীল হিসেবে এই আয়াত উল্লেখ করে থাকে। وَلَقَد يَسَّرنَا القُرآنَ لِلذِّكرِ فَهَل مِن مُدَّكِرٍ (সূরা কামার: ১৭) তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এই আয়াতের বক্তব্য হচ্ছে কুরআন একেবারেই সহজ। অতএব, তা অনুধাবনে বা আমল করতে কোন প্রকার তা’লিম বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

এর জবাব: কোরআনে কারিমের বিষয়াবলি দুই প্রকার। কিছু বিষয় এমন রয়েছে, যেগুলোর উদ্দেশ্য আল্লাহর ভয়, পরকালের ফিকির, আল্লাহর দিকে রুজু পয়দা করা এবং সর্বসাধারণকে উপদেশ প্রদান করা। আর কিছু বিষয় এমন আছে, যেগুলোতে আহকাম-বিধিবিধান ও এর মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে। وَلَقَد يَسَّرنَا القُرآنَ আয়াতটি সংশ্লিষ্ট প্রথম প্রকার বিষয়াবলির সাথে, দ্বিতীয় প্রকার বিষয়াবলির সাথে নয়। যার প্রমান হলো, وَلَقَد يَسَّرنَا القُرآنَ সাথে لِلذِّكرِ শর্ত। যদি বিধিবিধান বের করাও সহজ হতো, তবে এই শর্ত করা হতো না।

তাছাড়া সামনে বলা হয়েছে, فَهَل مِن مُدَّكِر। هل من مستنبط বা هل من مجتهد বলা হয় নি। তাছাড়া কুরআনে কারিমের কয়েকটি আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, এই কিতাব রাসূল ছাড়া বুঝা সম্ভব নয়। যেমন : وَأَنزَلنَا إِلَيكَ الذِّكرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيهِم (সূরা নাহাল : ৪৪)

২. হাদীস অস্বীকারকারীরা বলে, কুরআনে কারিমে বিভিন্ন স্থানে স্বীয় আয়াতগুলোকে স্পষ্ট প্রমান সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর দ্বারাও বুঝা যায় যে, কুরআন স্বয়ং স্পষ্ট। এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

জবাব: যেসব আয়াতকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সেসব আয়াত দ্বারা আকীদার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রমানাদি এতেই স্পষ্ট যে, সামান্য মনোযোগ দিলেই তা অন্তরে বসে যায়। খ্রিষ্টানদের তৃত্ববাদ আকিদার মত নয় যে, সারা বিশ্ব মিলেও তা বুঝা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তার উপর ভিত্তি করে একথা বলা যায় না যে, আহকামের ক্ষেত্রেও তা সহজ, এর ব্যাখার জন্য কোন নবী বা রাসূলের প্রয়োজন নেই।

৩. إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثلُكُم يُوحَىٰ إِلَيَّ (কাহাফ : ১১০) হাদীস অস্বীকারকারীরা বলে, রাসূল সা. কে অন্যান্য মানুষের মত একজন মানব সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতএব, এই আয়াতটি স্পষ্ট যে, রাসূল সা. এর উপর অবতীর্ণ وحي متلو তো অনুসরণ করা ওয়জিব, কিন্তু রাসূল সা. এর বাণীগুলোর উপর আমল করা ওয়াজিব নয়।

জবাব: ১. মুলত এই আয়াতটিকে তার পূর্ব ও পর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে এই প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। আসলে এই আয়াতটি সেসব কাফেরদের জবাবে এসেছিলো, যারা হুজূর সা. এর নিকট মু‘জিযা দাবি করে আসছিলো। এর জবাবে বলা হয়েছে, আমি তোমাদের মত একজন মানুষ,