আমার উস্তায হযরত মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ.। কোনাে হক আদায় করতে পারিনি এই উস্তাযের। ঋণী, অনেক দিক থেকে ঋণী। আমি হযরত মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ-এর সান্নিধ্য যদি না পেতাম, তাহলে দেওবন্দ কাকে বলে চিনতাম না। দেওবন্দিয়াত কাকে বলে জানতাম না। জানতাম না আকাবির কাকে বলে। কয়েকজন মানুষ এরা আমার জীবনের মুহসিন। এরা আমাকে রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছেন। হযরত মাওলানা নুর হােছাইন কাসেমী দা.বা., আল্লাহ তাঁর হায়াতকে কবুল করুন। হযরত মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দা.বা., আল্লাহ তাকে উলুব্বে মরতবা দান করুন। হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান দা.বা. লন্ডনে থাকেন। মুফতি গােলাম মােস্তফা রহ., ইন্তেকাল করে গেছেন। হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক দা.বা. বারিধারা মাদরাসার শায়খুল হাদীস। ফরিদাবাদ মাদারাসার আরাে কিছু উস্তাদ ছিলেন, মুহাদ্দিস সাহেব ছিলেন আব্দুল হাফিজ সাহেব রহ.; ইন্তেকাল করে গেছেন। এঁদের সান্নিধ্যের কারণে দেওবন্দিয়াত চিনেছি। আকাবিরে দেওবন্দ; হযরত নানুতবী রহ., হযরত গাঙ্গুহী রহ., হযরত শায়খুল হিন্দ রহ., হযরত আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ., হযরত থানভী রহ., হযরত মাদানী রহ., হযরত মাওলানা শাব্বীর আহমদ। উসমানী রহ., এরকম যত বুযুর্গানে দীন, শায়খুল হাদীস মাওলানা জাকারিয়া রহ, হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ., এঁদের সম্পর্কে জানা, তাঁদের নজরিয়া সম্পর্কে জানা এ সবকিছুই। কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ.-এর ইহসান।
তখন মালিবাগ জামিয়ায় তাদের একটা গ্রুপ ছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন হযরত মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ.। তখন তারা মালিবাগ জামিয়ায় বসে ছাত্রদের প্রােগ্রাম লাজনাতুত তলাবার-(একটি ছাত্র উন্নয়নমূলক সংগঠন) কর্মসূচী তৈরি করেন, তালিবে ইলমের পথ ও পাথেয়, লিখেছেন আমার উস্তায হযরত মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দা.বা.। তবে এটা ছিল একটা মিটিংয়ের আলােচনা-পর্যালােচনার সারনির্যাস। এমন একটা মিটিংয়ের আলােচনার সার, যে মিটিংয়ে বুযুর্গ উলামায়ে কেরাম থাকতেন। সভাপতিত্ব করতেন হযরত মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ.।
কাজী সাহেব রহ. ছিলেন বড় আলেম। আমরা তার কাছে হাদীস পড়েছি। তার দরসে গভীরতা ছিল। শাহ ওয়ালীউল্লাহ সত-এর ইলমের মধ্যে যেরকম গভীরতা ছিল, মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ.-এর কানের মধ্যে ওরকম গভীরতা ছিল। হযরত কাশ্মিরী রহ.-এর হাওয়ালায় যখন কথা বলতেন, তখন মনে হত, যুগের কাশ্মিরী যেন সামনে বসা। আর তিনি তাে ছিলেন আশেকে মাদানী। হযরত মাদানী রহ.-এর কথা যেদিন উঠত, সেদিন তাে কাজী সাহেব রহ.-এর। চেহারার প্রফুল্লতা, ভাষার যে অলংকার এবং উপস্থাপনার যে সুন্দর প্রাণবন্ততা, সে এক ভিন্ন ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা হত। যখন আসত মাদানী রহ.-এর কথাগুলাে, তখন নিজের মনের কথাগুলাে হ