মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ‘ক্রসফায়ারের’ নিয়ে আইজিপি বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে ভালো ঘুমের জন্য যে ফলগুলো খাবেন হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৫) প্রেসিডেন্টের অনুমতিতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে মিশর সৌদি আরবের দুই শহরে জরুরি সতর্কতা জারি   ‘নির্বাচনের আড়ালে চাপা পড়ছে ইসরায়েলের অপরাধ’

মুসলিমদের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের সবথেকে বড়ো অস্ত্র ‘রাষ্ট্রদ্রোহ আইন’ বাতিল করতে চায় সুপ্রিম কোর্ট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্বাধীনতার পর থেকে অসংখ্য নির্দোষ মুসলিমকে এই আইনের কারণে জেলের অন্ধকার কুটিরে জীবনের কয়েক যুগ পার করতে হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের কারণে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই সরকার এই আইন ব্যবহার করে তাদের মতের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সব মুসলিম রাজনৈতিক বন্দীদের বিরুদ্ধে ইংরেজদের তৈরি এই কালাকানুন ব্যবহার করে। তবে এবার এই আইনের বাতিলের পক্ষেই মত দিল সুপ্রিম কোর্ট।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ঔপনিবেশিক আইনের অন্তর্গত। স্বাধীনতা আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন তৈরি হয়েছিল। মহাত্মা গাঁধী, বালগঙ্গাধর তিলককেও চুপ করানোর জন্য এই আইন ব্যবহার করেছিল ব্রিটিশরা। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর এই আইনের কি আর প্রয়োজন রয়েছে? কেন্দ্রের উদ্দেশে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা মামলার শুনানিতে এই প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি এনভি রমানা।

ব্রিটিশ আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনকে “ঔপনিবেশিক” হিসাবে বর্ণনা করে সুপ্রিম কোর্ট আজ প্রশ্ন তোলে যে আইনটি “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও” আদৌ প্রয়োজনীয় কিনা। আইনটি প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রমের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং নির্বাহীর কোনও জবাবদিহিতা না থাকায় অপব্যবহারের “বিপুল ক্ষমতা” রয়েছে। আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ আইনকে ছুতোরের হাতের করাতের সাথে তুলনা করেছে।

রাষ্ট্রদ্রোহ আইন একটি ঔপনিবেশিক আইন। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও আমাদের কি এখনও দেশে আইনের দরকার আছে, প্রধান বিচারপতি এনভি রমন প্রশ্ন করেন। সরকারের শীর্ষ আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল যুক্তি দেন যে “নির্দেশিকা” সহকারে রেখে আইনটি বজায় রাখা উচিত ।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ এ এর রাষ্ট্রদ্রোহ সম্পর্কিত ধারাটি করাতের সঙ্গে তুলনা করেন, যা কোনো কাঠের টুকরোর পরিবর্তে পুরো বন কাটতে ব্যবহৃত হয়। যদি কোনও পুলিশ অফিসার কোনও কিছুর জন্য কোনও গ্রামে কারো ব্যবস্থা করতে চান তবে তিনি ধারা ১২৪এ ব্যবহার করতে পারেন … লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে যায় এক্ষেত্রে।

আদালত বলে তারা রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের বৈধতা যাচাই করবে এবং কেন্দ্রকে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার আবেদনের জবাব দিতে বলেছে। ওই সেনা কর্তার মতে, আলোচ্য আইনটি বাকস্বাধীনতার ওপর মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে, মত প্রকাশের ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এনবি নিউজ ইন্ডিয়া

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ