সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ‎শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ?

বিচারে সমতা আনতে শাস্তির নীতিমালা কেন নয়: হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দেশের বিচারব্যবস্থায় কোনো দণ্ড প্রদান নীতিমালা নেই। একটি হত্যা মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এমন রায়ের পর এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। উচ্চ আদালতও একই মনোভাব পোষণ করেছে। সেজন্য বিচারে সমতা আনতে শাস্তির নীতিমালা প্রণয়ন প্রশ্নে রুল জারি করা হয়েছে।

রুলে বিচারব্যবস্থায় দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে সমতার প্রশ্নে নীতিমালা প্রণয়নে কেন সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালত বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই দণ্ড প্রদান নীতিমালা (সেনটেন্সিং গাইডলাইন) রয়েছে। আমাদের দেশে এটা নিয়ে এখন ভাবার সময় এসেছে।

‘আতাউর মৃধা বনাম রাষ্ট্র’ মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ বিচারকের জন্য অনেক কঠিন কাজ। শাস্তির মাত্রা অনেক সময় বিচারকের মনমানসিকতার ওপর নির্ভর করে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতাও বিচারকের মনকে বিভিন্নভাবে নাড়া দেয়। ফলে একই ধরনের ঘটনা বিচারের ক্ষেত্রে শাস্তির তারতম্য ঘটে। শাস্তি প্রদানের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা ছাড়া বিচারের ক্ষেত্রে সমতা আনা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশেই সেনটেন্সিং পলিসি (দণ্ড প্রদান নীতি) রয়েছে। অতীতের ন্যায় দণ্ড প্রদান নীতি দেশের বিচারব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা উচিত।

আপিল বিভাগ বলেছে, বাংলাদেশে বিচারকদের জন্য শাস্তি প্রদানের কোনো নীতিমালা নেই। তাই শাস্তি প্রদানের আইনসিদ্ধ নির্দেশিকা প্রয়োজন। অপরাধের মাত্রার ওপর ভিত্তি করেই এই নির্দেশিকা প্রণয়ন জরুরি। এক্ষেত্রে অপরাধ, অপরাধী এবং এ দুটির তুলনামূলক পরীক্ষার কথা বিবেচনায় আনতে হবে।

রায়ে বলা হয়েছে, অতীতের ন্যায় সেনটেন্সিং হিয়ারিং (দণ্ড শুনানি) বিচারব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা উচিত। সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী ও আবেগনির্ভর শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

এই রায়ের পর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আতাউর মৃধার অন্যতম আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দণ্ড প্রদান নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আবেদনের পক্ষে রিট আবেদনকারী নিজেই এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট দণ্ড প্রদান নীতিমালা প্রণয়ন প্রশ্নে রুল জারি করে।

শিশির মনির বলেন, অনেক সময় একই অপরাধে একেক জন বিচারক একেক ধরনের দণ্ড দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে দণ্ডের মাত্রা নির্ধারণে দ্রুত এই নীতিমালা করা দরকার। যাতে বিচারে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য না হয়।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ