সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

সুগন্ধি সাবান উদ্ভাবনে মুসলমানদের অবদান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ‘সাবান’, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় সোপ (Soap)। এই শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ স্যাপো (Sapo) থেকে। এই স্যাপো শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় খ্রিস্টীয় ৭৭ সালে।

আবার পর্তুগিজ ভাষায় স্যাব অথবা স্যাবোনেট নামে একটি শব্দ রয়েছে, যেটির অর্থ তেল বা চর্বি এবং অন্যান্য উপাদানের একটি মিশ্রণ; মূলত ছোট আকারের টুকরা, যা ধোয়াধুয়ির কাজে ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ মনে করে যে স্যাবো থেকে ব্রিটিশ ইংরেজিতে শব্দটি হয়ে যায় সোপ আর তা থেকে বাংলায় সাবান।

রোগজীবাণু থেকে বাঁচতে সাবান বা সাবানজাতীয় জিনিসের ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো। পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবানজাতীয় বস্তু ব্যবহারের প্রথম প্রমাণ মেলে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ সালে, প্রাচীন ব্যাবিলনে।

শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই নয়, একসময় সাবান ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন চর্মরোগের চিকিৎসায়ও, এ তথ্য জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে প্রকাশিত চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক প্রকাশনা ইবার্স প্যাপিরাস থেকে। সে সময় মিসরে পশুর চর্বি, সবজির তেল এবং অ্যালকাইন লবণ মিশিয়ে সাবানের মতো দ্রব্য প্রস্তুত করা হতো। মেসোপটেমিয়া, মিসর, মধ্যপ্রাচ্য সাবান তৈরি, ব্যবহার ও ব্যবসার ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। প্রাচীন চীনেও সাবান ব্যবহারের কথা জানা যায়।

তবে সর্বপ্রথম শক্ত সাবান তৈরি করেছিল আরবরা। পরবর্তীকালে তা ইউরোপে পরিচিত হয়। আর আমাদের এ অঞ্চলে সাবানের ইতিহাস ২০০ বছরেরও কম। ইতিহাসবিদদের মতে, সুগন্ধি সাবানের উদ্ভব হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ান সভ্যতায় সাবান তৈরি ও ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রাচীন সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের অধিবাসীদের ছিল উত্কৃষ্ট মানের সাবান তৈরির দক্ষতা। (প্রথম আলো)

তৎকালে সিরিয়াসহ অনেক মুসলিম দেশে সাবান উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠে। রঙিন সুগন্ধি সাবান, ডাক্তারি সাবান তৈরি ও রপ্তানি হতো সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে। নাবলুস, দামাস্কাস, আলেপ্পো ও সারমিন ছিল সাবান তৈরিতে বিখ্যাত। তারা সাবান তৈরিতে ব্যবহার করত জলপাইয়ের তেল ও আলকালি। কখনো কখনো এতে যোগ করা হতো ন্যাট্রন।

এমনই তথ্য পাওয়া যায়, মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞানী লেখক দাউদ আল আন্তাকির বর্ণনায়। এ ছাড়া আধুনিক সাবান তৈরির প্রস্তুত প্রণালী আবিষ্কার করেন মুসলিম বিজ্ঞানী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল রাজি। (প্রযুক্তির জনকেরা, পৃষ্ঠা ১৫৫)

চিকিৎসাবিজ্ঞানে আল রাজির অবদান অবিস্মরণীয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলমান বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা বলতে গেলে প্রথমেই তাঁর কথা বলতে হয়। তবে তিনি শুধু চিকিৎসকই ছিলেন না, ছিলেন একাধারে গণিতবিদ, রসায়নবিদ ও দার্শনিক। সূত্র: ইকনা

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ