বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মিশরে পর্যটকবাহী বাসে ট্রাকের ধাক্কা: নিহত ১৩, আহত ৩৪ যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে ইসলামী যুব আন্দোলনের বৈঠক ২১ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি মোল্লাহাটে বিকেএমে যোগ দিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ জনপ্রতিনিধি জাপানে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সহজ করতে সমঝোতা ধর্মমন্ত্রীর হাতে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইজতেমার দাওয়াতপত্র হস্তান্তর মসজিদে হারামের ইমাম শায়খ বান্দার বালিলাহর পদোন্নতি ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রীতির বন্ধনে ৪৫ বছর, নড়াইলে গা ঘেঁষে অবস্থান মসজিদ-মন্দিরের কুমিল্লায় বৃত্তি প্রদান ও আল্লামা নুরুল হক (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

শান্তির খাতিরে ছেলের খুনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষীই দিলেন না ইমাম বাবা!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দাঙ্গার আগুনে হারিয়েছিলেন ১৬ বছরের ছেলেকে। কিন্তু প্রতিহিংসার বদলে ইমাম ইমদাদউল্লা রশিদ হাতজোড় করে অশান্ত আসানসোল বাসীকে শান্ত হওয়ার আর্তি জানিয়েছিলেন।

বলেছিলেন, আর কোনও বাবাকে যেন সন্তানহারা হতে না হয়। তার সেই আবেদনে শান্তি ফিরেছিল শিল্পাঞ্চলে। তার পর কেটে গিয়েছে চারটে বছর। আবারও মানবতার বার্তা দিলেন সেই ইমাম। ছেলের অপহরণ ও খুনের মামলায় আদালতে দুই ধৃতের বিরুদ্ধে সাক্ষীই দিলেন না ইমাম।

আদালতকে জানালেন, তিনি তো দোষীদের নিজের চোখে দেখেননি। তাই মিথ্যা সাক্ষী সাজবেন কেন!

ইমামের এই সাক্ষ্যের পর আসানসোল আদালত বেকসুর খালাস করে দশম শ্রেণির পড়ুয়া সিবগতউল্লা, অপহরণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত পিন্টু যাদব ও বিনয় তিওয়ারিকে।

ভরা আদালতে ছেলের খুনে অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে যাবে জেনেও সন্তানহারা বাবার এমন সাক্ষ্যে অবাক অনেকেই। আইনজীবীও বিস্মিত। যদিও নিজের অবস্থানকে ব্যতিক্রমী কিছু ভাবছেন না ইমাম।

তিনি বলেন, ‘‘সে দিন বলেছিলাম, আজও বলছি। যা নিজের চোখে দেখিনি, তার সাক্ষী কী ভাবে দেব!’’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের রামনবমীর দিন গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয় আসানসোলের রানীগঞ্জে। রেললাইনের পাশে খুন হন বেশ কয়েক জন। মামলা করে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। দুই গোষ্ঠীরই বেশ কয়েক জন গ্রেফতার হন। বহুদিন সেই মামলা চলার পর শর্তসাপেক্ষে জামিন হয় অভিযুক্তদের। ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে কেউই বলেননি যে তারা নিজের চোখে দেখেছেন কে বা কারা খুন করেছে।

বীরভূমের বগটুইয়ে যখন উত্তপ্ত, তখন আসানসোলের এক ইমাম ও তার আত্মীয়স্বজন নিজের ছেলের খুন হওয়ার পরেও আদালতে জানালেন, তারা সত্যিই দেখেননি তাদের ছেলেকে কে বা কারা খুন করেছে। এরপর অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস দেন অতিরিক্ত জেলা বিচারক শরণ্যা সেন প্রসাদ।

অভিযুক্তদের আইনজীবী শেখর কুণ্ডুর কথায়, ‘‘মামলায় অন্যতম সাক্ষী নিহতের বাবা ইমদাদউল্লা রশিদি আদালতে জানান, তিনি যেহেতু নিজের চোখে কাউকে খুন করতে দেখেননি তাই তিনি সাক্ষ্য কী করে দেবেন। তিনি ছাড়া যারা সাক্ষী হিসেবে ছিলেন, তারাও জানিয়ে দেন এদের কাউকে খুন করতে দেখেননি।’’

মামলার সহকারী প্রধান আইনজীবী স্বরাজ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার ৭১ বছর বয়স হল। আমি ৪৮ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছি। একজন খুন হওয়া পুত্রের পিতা সাক্ষী দিলেন না, কারণ তিনি নিজের চোখে কিছু দেখেননি। এটা আমার কাছে নজিরবিহীন ঘটনা।’’

শুক্রবার রায়ের পর পুত্রহারা সেই ইমামের কথায়, ‘‘আমি সেদিনও যে কথা বলেছি আজও সেটাই বলছি। আল্লাহা তায়লা প্রকৃত বিচার করবেন। পুলিশ মামলা সাজিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের দায়িত্ব তারা প্রকৃত খুনি ধরবে। আমি যেহেতু নিজের চোখে কাউকে আমার ছেলেকে অপহরণ করতে বা খুন করতে দেখেনি, স্বাভাবিক ভাবেই আদালতে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিতে পারব না বলেই সাক্ষী দিইনি। চিরকাল আমি সত্যের জন্য লড়াই করে এসেছি। একজন ইমাম হিসেবে সত্যকে নিয়েই বাঁচতে চাই। আমি নিজে কারও নাম দিইনি। যারা গ্রেফতার হয়েছিল, এক সময় তাদের পরিবারের কেউ কেউ আমার কাছে আসার পর আমি বলেছিলাম আমি যা চোখে দেখিনি, তা বলব না। আর ওরা যদি পাপ না করে থাকে, তা হলে ওরা মুক্তি পাবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযুক্তরা সবাই বেকসুর খালাস হল। সামনে আবার একটা রামনবমী। দু’বছর পর রামনবমীর মিছিল হবে বলে শুনছি। আমার একটাই অনুরোধ, আসানসোল যেন শান্তিতে থাকে।’’

সূত্র: আনন্দবাজার।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ