||বিশেষ প্রতিনিধি||
এবারের নির্বাচনে বিএনপি তাদের মিত্র দলগুলোর মধ্যে বেশ কিছু আসনে ছাড় দিয়েছে। এর মধ্যে প্রাচীন ইসলামি দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এই চারটি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। অন্যদিকে জমিয়ত দেশের বেশির ভাগ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়। বাকি আসনগুলোতে বিএনপিকে সহযোগিতা করবে জমিয়ত।
তবে এবার জোট রাজনীতিতে বিপত্তি বাঁধিয়েছে আরপিও সংশোধন। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এক দলের প্রার্থী আরেক দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না। জোট করলেও নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে। ফলে জমিয়তের প্রার্থীদের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। এতে নির্বাচনী মাঠে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জোটসঙ্গীরা। তাদের প্রতীক এতোটা পরিচিত না হওয়ায় বিএনপির ছাড় পাওয়ার পরও ভোটের বৈতরণী কতটা পার হতে পারবেন সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রার্থীরা। এক্ষেত্রে অন্যান্য শরিকদের মতো ব্যতিক্রম নয় জমিয়তও। দলটির চারজন প্রার্থীই নিজ দলের প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে ভোটে লড়ছেন। অপরদিকে প্রতিটি আসনেই বিএনপির এক বা একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীসহ দশ দলের প্রার্থীরাও আছেন।
বিএনপির কাছ থেকে ছাড় পাওয়া আসনগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনটি। এই আসনে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তাকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তারপরও স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ তার সঙ্গে রয়েছে। এর ফলে খেজুর গাছের বাক্সে বিএনপির সব ভোট আসবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত চাকসু মামুনকে ভোটের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করতে না পারলে জমিয়ত সভাপতির জন্য আসনটি লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনেও জমিয়তকে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এই আসনে খেজুর গাছ নিয়ে নির্বাচন করছেন জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। এখানে তার বিপরীতে বিএনপির আলোচিত নেত্রী রুমিন ফারহানা প্রার্থী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও তিনি ভোটের মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন রুমিন ফারহানা।
অন্যদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আশরাফ মাহদী শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আলোচিত আলেমে দীন মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র। সে হিসেবে আলেম-উলামার ভোটে আশরাফ মাহদী ভাগ বসাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষ আলেমরা ঘোষণা দিয়ে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন করেছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বজয়ী হাফেজ গড়ার কারিগর খ্যাত হাফেজ নেছার আহমদ আন-নাছিরী। তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের যে নির্বাচনী মোর্চা হচ্ছে এর সমর্থন পাবেন বলে আশা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা) আসনে ভোটে লড়ছেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। বিএনপি থেকে আসনটিতে ছাড় পেলেও দলের একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন এবং ২০০৮ সালে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করা শাহ আলম। তাদের দুজনকেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা ভোটের মাঠে টিকে থাকলে মুফতি মনির কাসেমীর জন্য জয় নিয়ে ফেরা কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপির ছাড় পেয়েছেন জমিয়ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। এখানে বেগম খালেদা জিয়ার ভাগনে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন) শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও জোটের স্বার্থে ছাড় দেয় বিএনপি। তবে তুহিনকে প্রার্থী করতে কয়েক দিন আন্দোলন হয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। এতে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাওলানা আফেন্দীর কিংবা জমিয়তের নিজস্ব ভোটব্যাংক সেভাবে না থাকায় এই আসনেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জমিয়ত নেতাদের কপালে।
এনএইচ/