শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ।। ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৪ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
ভারতের আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৮ জনের মৃত্যু  ১০০ রাকাত নামাজ পড়িয়েও ‘হেদায়েত’ করা গেল না তাকে! জমিয়তের খাস কমিটির বৈঠক, ত্রাণ ফান্ডে সহযোগিতার আহ্বান ‘ইসলামি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে’ ইসলামী আন্দোলনের লালমনিরহাট জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত ‘জুলাই চেতনার কথা বলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চালানো দ্বিচারিতা’ বন্যা দুর্গতদের পাশে আলেম, ইসলামি সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইমামুল হিন্দের নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস অন্যায়: মাওলানা আরশাদ মাদানী ‘আল-মুঈন ত্রাণ তহবিলে’ উদারহস্তে সহযোগিতার আহ্বান হাটহাজারীর মুহতামিমের ঢাকায় ‘ইমামুল হিন্দ শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত

বন্যা দুর্গতদের পাশে আলেম, ইসলামি সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ইমরান ওবাইদ, সাব-এডিটর

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়েছে, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট ও জীবিকা। এমন সংকটময় মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা নিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের শীর্ষ আলেম, ইসলামি সংগঠন, মাদরাসা এবং বিভিন্ন ইসলামিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান। কেউ জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন দুর্গম এলাকায়, কেউ বিতরণ করেছেন নগদ অর্থ, রান্না করা খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রী, আবার কেউ নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘর পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ। মানবসেবার এই উদ্যোগ দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে, তেমনি ইসলামের ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের চেতনাকেও নতুনভাবে সামনে তুলে ধরেছে।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন উদ্যোগ

বন্যা পরিস্থিতির শুরু থেকেই মাঠে নামে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত চারটি ইউনিয়নের দুই হাজার পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও চার হাজার খাদ্য প্যাকেজ প্রস্তুত করে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়, যা পরদিন আটটি উপজেলার দুর্গত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

শুধু ত্রাণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি সংস্থাটি। ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের নতুন ঘর নির্মাণের ঘোষণাও দেন শায়খ আহমাদুল্লাহ, যা পুনর্বাসন কার্যক্রমে অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হেফাজতে ইসলামের মানবিক কার্যক্রম

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সংগঠনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা হাফেজ খোবাইব বিন তৈয়ব, মুফতি ইকরাম হোসাইন অদুদীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ত্রাণ বিতরণ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বন্যার শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিল। বাঁশখালীর কালিপুর, বনাকাটা, জালিয়াঘাটা, হাজীপাড়া, ছনুয়া, শীলকূপ ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ। এর আগে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও টিডিএফের সহায়তা

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও তাগলীবে দ্বীন ফাউন্ডেশন (টিডিএফ) যৌথভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুর্গত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী, রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করে।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

খেলাফত মজলিসের ত্রাণ কার্যক্রম

খেলাফত মজলিসও বাঁশখালীর প্রত্যন্ত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেয়। ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক মুফতি শিহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকারসহ অন্যান্য নেতারা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গত মানুষের সহায়তায় তাদের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশন বন্যার্তদের মধ্যে এমন পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়, যারা সংকোচের কারণে ত্রাণ চাইতে পারেন না। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা পেকুয়া, চকরিয়া ও বাঁশখালীর দুর্গম এলাকায় গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।

সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল মাহফুজ আহমেদ জানান, খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ২০টি বিধ্বস্ত ঘর পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ত্রাণ

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মুফতি ইকরাম হোসাইন অদুদীর নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল হাতিয়ারকুল কাসেমিয়া নূরুল আলম মাদরাসাকে কেন্দ্র করে আশপাশের দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে।

ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মনসুরুল হক সিদ্দিকী সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

মারহামা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের রান্না করা খাবার

চকরিয়ার বন্যাদুর্গত এলাকায় মারহামা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ৩০০-এর বেশি মানুষের মাঝে গরম খিচুড়ি পরিবেশন করে।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানভীর সিরাজ এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন

হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন দুর্গম এলাকায় ত্রাণ, নগদ অর্থ ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবীরা নৌকাযোগে দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির সহায়তা

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ দুর্গম এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে।

পিসবের মানবিক উদ্যোগ

পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসব) অন্যান্য দুর্যোগের মতো এবারও বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটির কর্মীদের পানিবেষ্টিত এলাকায় হেঁটে ও নৌকায় করে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা গেছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ