গাজীপুরের খতিব মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজীর কথিত অপহরণ ও পরবর্তী স্ববিরোধী স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাটি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক (ইবনে শাইখুল হাদিস)।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনাটি নিয়ে খেলাফত মজলিসের অনুসন্ধান, প্রাপ্ত তথ্য ও অসম্পূর্ণ প্রতিবেদনের কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা মূলত দুটি সম্ভাবনার আশঙ্কা মাথায় রেখে অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন মনে করেছি। একটি হলো—খতিব সত্যিই অপহৃত হয়েছেন কি না, আরেকটি হলো—পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থা বলপ্রয়োগ করে তার কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছে কি না।’
তিনি জানান, এই দুটি শঙ্কা থেকেই বিশেষ একটি টিম অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান চলাকালে মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজীর অসুস্থতার খবর পাওয়া গেলে দলটি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকায় এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা পরিচালিত হয়।
মা মুনুল হক বলেন, ‘আমরা তাকে নিরাপদে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তার ছেলেসহ আমাদের টিম হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। চিকিৎসক, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাই।’
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিশেষ টিম দুটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়—
১. খতিব মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজীকে অপহরণ করা হয়নি।
২. পুলিশ কর্তৃক বলপ্রয়োগে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।
তবে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, কিছু প্রশ্ন এখনো অনুত্তরিত থেকে গেছে। যেমন—খতিব মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজী কীভাবে পঞ্চগড়ে গেলেন, তার নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রাপ্ত হুমকিপত্রগুলোর সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই অংশের তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা আমাদের সীমার মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব অনুসন্ধান চালিয়েছি।’
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, অসম্পূর্ণ অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের প্রয়োজন ছিল কেন?
এর জবাবে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা মনে করেছি, গাজীপুরের ঘটনার প্রতিবাদে যারা সরব হয়েছিলেন, ভবিষ্যতে যদি সত্যিকারের কোনো অনুরূপ ঘটনা ঘটে, কেউ যেন গাজীপুরের উদাহরণ টেনে সেটিকে অবাস্তব বলে দাবি না করেন—এই স্বচ্ছতার স্বার্থেই আমরা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছি। সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ যাতে আমাদের ওপর না আসে, সেটিই ছিল আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি সবাইকে যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কোনো হঠকারী বক্তব্য বা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এলএইস/