সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


ধারাবাহিক উপন্যাস : অশুদ্ধ পুরুষ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

upannashমনির প্রধান : সোমবার বৃহস্পতিবার । দুদিন রওশন আরার দুর্দিন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরপর। একেকটা মুহূর্ত পার হয় আর আতঙ্ক জমতে থাকে। একটি দীর্ঘ রাত সমস্ত পাশবিকতা নিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে অক্টোপাসের মতো।
অন্য দিনগুলোতে এগারোটা সাড়ে এগারোটার মধ্যে বিছানায় গেলেও এ দুদিন যদ্দুর সম্ভব দেরি করেন রওশন আরা। চায়ের প্রতি তার খুব আগ্রহ নেই। তবু আয়োজন করে চা তৈরি করেন। কখনো টিভি অন করে শক্ত হয়ে সোফায় বসেন। কিছু একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে মনে হয়।

এ সমস্ত কিছুই নাজমুল হুদাকে এড়িয়ে যাবার জন্য। মনে কত আশা। তার দেরি দেখে যদি নাজমুল ঘুমিয়ে পড়েন। নাজমুল হুদা ঘুমান না। মাছ শিকারি পাখির মতো অপেক্ষায় থাকেন। তবু বিছানা বিলাসের আনন্দটি দারুণভাবে তাকে আনন্দ দেয়। বিছানায় মধ্য রাতের দিকে রওশন আরার মুখটি যেমন করুণ হয়ে ওঠে, তা চোখে ভাসতেই ঘুম পালিয়ে যায়।

এর সবকিছুই রওশন আরা বোঝেন। তবুও তিনি চা খাওয়ার ছুতোয়, খবর দেখার ভান করে কিছু সময় কাটাতে চান। অথৈ জলে পড়লে মানুষ যেমন খড়কুটোকেও আশ্রয় মানতে ব্যকুল হয় রওশন আরার অবস্থা অনেকটা সে রকম।

আজ রওশন আরা সময় কাটানোর কোনো বাহানায় গেলেন না। ফারহি এবং লুবনার ঘরে আলো নেভার পর বিছানায় শুয়ে পড়লেন। নাজমুল হুদা তার ঘরে আসেন পৌনে বারোটার দিকে। এসেই আজ বিছানায় ঝাঁপিয়ে পড়েন না। রওশন আরাকে আশ্চর্য করে দিয়ে ঘরের বাতি জ্বালান। টেবিলে রওশনের কিছু বই অগোছালো ছিল। সেগুলো গুছিয়ে রাখেন। আজকের ধোয়া কিছু কাপড় আলমিরায় তোলা হয়নি। চেয়ারের ওপর ঝুলে ছিল। তাই দেখে নাজমুল হুদা মৃদু অনুযোগের সুরে বলেন, জোতিটা যে কি করে! কাপড়গুলোও তুলে রাখেনি। বলে তিনি নিজেই কাপড়গুলো আলমিরায় তুলে রাখেন। রওশন আরা নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারেন না। যে মানুষ মশারির দড়িটা পর্যন্ত নিজ হাতে বাঁধে না, অথচ তার আজ এই পরিবর্তন।
নাজমুল হুদা কোমল গলায় ডাকেন, রওশন! এসো খানিক গল্প করি। বলতে বলতে তিনি আয়েশি ভঙ্গিতে বিছানায় পা তুলে বসেন।

কি ব্যাপার, কী নিয়ে গল্প করবে? তুমি আমাকে কিছু কি বলতে চাও?
স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে গল্প করতে পারে না, বলো? তুমি শুধু শুধু সব কথায় কিন্তু খোঁজ। এটা ঠিক না।
কথাগুলো নাজমুল হুদা এমন সুরে বলেন, কোনো আক্রমণাত্মক উত্তর রওশন আরার মুখে যোগায় না। অথবা যোগালেও তার দিতে ইচ্ছে করে না।
রওশন কথা বলছো না যে?
কী বলবো?
তুমি মাঝে মধ্যে অদ্ভুত কথা বলো। স্বামী-স্ত্রীর মনে পরস্পরের প্রতি কতো কথা জমে থাকà