মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ। বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষক ও রাজনীতিক। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান বিদগ্ধ রাজনীতিক ও আলেম মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ. এর ইন্তেকালের পর তার উত্তরসূরি হিসেবে লাইমলাইটে আসেন মুফতি ফয়জুল্লাহ। মাদরাসার শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সরব রাজনীতিতে। ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব। এছাড়াও ২০১৪ সালের হেফাজত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন তিনি। শিক্ষানীতি বিষয়ে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলাম ২৪ ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি দিদার শফিক
আওয়ার ইসলাম : শিক্ষানীতি ২০১০ এবং খসড়া শিক্ষাআইন ২০১৬ সম্পর্কে আলেম-ওলামা ও বিজ্ঞমহলের নানান আপত্তির কথা শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি কেমন?
মুফতি ফয়জুল্লাহ : শিক্ষানীতি ২০১০ এর লক্ষ্য-উদ্দেশে বলা হয়েছে, এ শিক্ষানীতি এবং এ সিলেবাসের অধীনে যারা লেখাপড়া করবে তারা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। এ মতবাদ ও চিন্তাদর্শনের বিরুদ্ধেই মূলত ইসলামের আবির্ভাব ও উত্থান হয়েছে। ইসলাম সবসময় এ মতবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে। ইসলাম বলে, ইসলাম সকল ধর্মের প্রতি সহনশীল। আমি আবার বলছি, ইসলাম সকল ধর্মের প্রতি সহনশীল কিন্তু শ্রদ্ধাশীল নয়। হতে পারে না। কোনো মুসলমান সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারে না। কেউ যদি সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় তাহলে সে আর মুসলমান থাকে না। সে ইসলামশূন্য হয়ে যায়। আমি মনে করি, শিক্ষানীতি ২০১০ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় এবং এ সিলেবাস এর মূল লক্ষ্যই হল আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন ইসলামশূন্য হয়ে যায়। ইসলামি চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা সব কিছুই যেন তাদের মাথা থেকে বের হয়ে যায়। একটা অনৈসলামিক, ইসলামবিরোধী, ধর্মবিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে যেন তারা গড়ে ওঠে।
আওয়ার ইসলাম : শিক্ষানীতিতে কী কী ত্রুটি আছে বলে মনে করেন?
মুফতি ফয়জুল্লাহ : শিক্ষানীতিতে অসংখ্য ত্রুটি আছে। এখানে সবগুলো বলা সম্ভব নয়। পুরো শিক্ষানীতিটাই ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া উচিত। বাংলাদেশের জন্য কখনই এ শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন প্রযোজ্য নয়। হতে পারে না। চলতে পারে না।
শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮টি সাবজেক্ট বাধ্যতামূলক থাকবে। আটটি সাবজেক্টের
মধ্যে কী আছে? বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, বিজ্ঞান, সমাজ, ইতিহাস, চারুকলা ও ভূগোল। প্রাথমিকশিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে। একজন ছাত্র আটটি বিষয় পড়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করতে হবে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হলে এবং এ আটটি বিষয় একজন ছাত্র পড়তে থাকলে সে কখনো মাদরাসায় পড়তে পারবে না। আর এ সময়টাই মূলত কুরআন পড়ার সময়।