মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান আলেম। জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া সিনিয়র মুহাদ্দিস। তাওযিহুল কুরআনসহ অসংখ্য শক্তিশালী অনুবাদ আছে তার। সম্প্রতি ঢাকার বাসাবোতে অবস্থিত মাদরাসাতুস সুফ্ফার স্মারকগ্রন্থ পুস্পকাননে প্রকাশিত সাক্ষাতকারটি আওয়ার ইসলামের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন : আমাদের তালিবুল ইলম ভাইদের মধ্যে মৌলিক তিনটা প্রকার দেখা যায়। এক প্রকার হলো যারা বেশ মেধাবী এবং সহজে কিতাব বুঝতে পারে। আরেক পর্যায়ের থাকে যারা মধ্যম মেধার। দরসের পরে তাকরারের মধ্যে অন্যরা যখন খোলামেলা ভাবে বুঝিয়ে দেন তখন বুঝতে পারেন। আরেক পর্যায়ের হলেন যারা মেধায় ও বুঝ শক্তিতে আরেকটু সাধারণ। এই তিন পর্যায়ের তালিবুল ইলমদের মধ্যে কে কিভাবে কিতাব ও ফনের উপর যোগ্যতা অর্জন করতে পারে?
উত্তর : আসলে এ ব্যাপারে একটা গোড়ার কথা আছে। আমাদের এই দরস ও তাদরীস, তালীম ও তাআল্লুমের মূল মাকসাদ হচ্ছে দাওয়াত। দাওয়াত বলতে খুব হালকা আন্দাযে নয়। বাসীরাত ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে দাওয়াত দেয়া। নবী (সা) এবং সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের মূল কাজ ছিলো দাওয়াত ইলাল্লাহ।
কাজেই ওয়ারিসে নবী হিসেবে আমাদের কাজ তো ওটাই হবে। এখন দাঈ হওয়ার জন্যে আমাদের কী গুণাবলী ও যোগ্যতা দরকার এটা আগে নির্ণয় করা জরুরী। এই যোগ্যতাগুলোকে সামনে রেখে নেসাব তৈরি হওয়া দরকার। এবং সে অনুযায়ী কিতাব নির্বাচন দরকার।
অতএব প্রশ্ন অনুযায়ী তিন ধরণের ছাত্রের জন্য তিন স্তরের নেসাব করা যেতে পারে। অর্থাৎ দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমরা কোন স্তরকে দিয়ে কী কাজ নেব সেটা বিবেচনা করে স্তরভিত্তিক নেসাব তৈরি করা জরুরী। দাওয়াতের কাজ তো বিশাল। কিছু কাজ এমন যা আঞ্জাম দেয়ার জন্য উঁচু মানের যোগ্যতা দরকার। আর কিছু কাজ আছে যা মধ্যমানের লোক দ্বারাও সম্ভব। আবার কিছু বুনিয়াদী কাজ আছে যা অপেক্ষাকৃত কম মেধা ও যোগ্যতার লোকদের দিয়েই করানো যায়।
যামানার চাহিদা সামনে রেখে মানুষের সবরকম সমস্যার সমাধান দেয়া, যুগ জিজ্ঞাসার জবাব দেয়া একটু কঠিন কাজ। এর জন্য উচ্চস্তরের যোগ্যতা দরকার। দিন দিন মানুষের জ্ঞানবুদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর ফলে মানুষের জিজ্ঞাসাও দিন দিন গভীর হচ্ছে এবং বিস্তার লাভ করছে। এমন এমন দ্বীনি বিষয়ে জিজ্ঞেস করছে আগে যা মানুষের মাথায় আসতো না। এই জাতীয় মানুষের কাছে দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার জন্যে খুব ভালো যোগ্যতা দরকার। কাজেই ঐ রকম কিছু দাঈ তৈরির জন্য ভিন্ন নেসাব প্রয়োজন।
তবে অধিকাংশ লোক হলো মধ্যমানের। তাদের জন্য সেই মানের ছেলেদের প্রস্তুত করা দরকার।