আবুল ফাতাহ : স্বনামধন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. সাইদুর রহমান আজ বেশ আগেভাগেই চেম্বার ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজ তাঁর বিবাহ বার্ষিকী।
দেশের খ্যাতনামা ডাক্তারদের মধ্যে ড. সাইদুর রহমান একজন। সে হিসেবে তাঁর প্রচন্ড ব্যস্ততা থাকার কথা, এবং প্রচুর পরিমাণে সেটা তাঁর আছেও। তবে পরিবারকে সময় দেবার ক্ষেত্রে তিনি কখোনোই কৃপণ নন। পারিবারিক যেকোনো অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব নিয়ে উপস্থিত থাকেন। নিয়ম করে মাসে একবার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দূরে কোথাও চলে যান। সময় এবং সুযোগের সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলে দেশের বাইরেও যান। এর ধারাবাহিকতায় আজ অনেকটাই কম তার অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা। অন্যান্য দিন বাসায় ফিরতে রাত হলেও আজ সন্ধ্যা মিলাবার বেশ আগেই সবকিছু গুছিয়ে চেম্বার ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেন।
চেয়ার থেকে উঠবেন, ঠিক তখনই দরজায় কম্পাউন্ডার আনিসের মুখ দেখা গেল।
স্যার, এক ভদ্রলোক আপনার সাথে দেখা করতে চান।
বলে দাও, আজ হবে না। অন্য একদিন যেন অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসেন।
স্যার, বলেছি, কিন্তু... একী! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? অপরিচিত এক লোক আনিসকে একরকম ধাক্কা দিয়ে সাইদুর রহমানের রুমে ঢুকে পড়লেন।
আনিস উত্তেজিত হয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, সাইদুর রহমান বাঁধা দিলেন।
সাইকিয়াট্রিস্ট হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা তাঁর কাছে নতুন না, তবে তিনি তাঁর রোগীদের প্রতি সবসময়ই সহানুভূতিশীল। মানসিক রোগীকে তিনি একজন রোগী হিসেবেই দেখেন, পাগল হিসেবে নয়।
কোনো মানুষের কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দিলেই সবাই মিলে তাকে মানুষের কাতার থেকে বের করে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। একজন অন্ধকে সবাই অন্ধমানুষ বললেও একজন মানসিক রোগীকে কেউ পাগল মানুষ বলে না, স্রেফ পাগল!
আনিসকে লক্ষ্য করে ড. সাইদুর রহমান বললেন, তুমি যাও, আমি দেখছি।
আনিস দরজা থেকে অদৃশ্য হতে ড. সাইদুর রহমান এবার আগন্তুক ভদ্রলোকের দিকে মনোযোগ দিলেন।
মাঝবয়সী একজন মানুষ। দুটো কারণে একজন অপরিচিত মানুষের চেহারা মনে থাকে। অধিক কুৎসিত অথবা অধিক সৌন্দর্যের অধিকারী হলে। এর মাঝামাঝি চেহারা মনে থাকার তেমন কোনো কারণ নেই। তবে সামনে দাঁড়ানো বিশেষত্বহীন চেহারার লোকটাকে কেন যেন পরিচিত মনে হচ্ছে ড. সাইদুর রহমানের কাছে।
বসুন আপনি, লোকটার উদ্দেশে সামনে রাখা চেয়ার ইঙ্গিত করলেন তিনি।
ভদ্রলোক বসতে বসতে বললেন, এভাবে ঢুকে পড়ায় আমি সত্যিই দুঃখিত। আসলে আপনার সাথে দেখা করাটা আমার জন্য খুবই প্রয়à