আব্দুল্লাহ বিন রফিক, বিশেষ প্রতিবেদক : ইসলামের অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জর্দানের পূন্যভূমিতে। সেসব নিদর্শনের পাশাপাশি আছে শত-সহশ্র বছর ব্যাপী গড়ে উঠা অতীত সভ্যতার স্মৃতি-ছবি, মসজিদ, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাহাবিদের সমাধিস্থল। যেমন- আবু যর গিফারি ও আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহর মতো মহান সাহাবিদ্বয় এখানেই সমাধিস্থ হয়ে আছেন। শুয়ে আছেন মু’তা যুদ্ধের বীর শহীদগণ- জাফর বিন আবি তালিব, যায়েদ বিন হারিছা, আব্দুল্লাহ বিন রওয়াহা ও হারিছ বিন উমায়ের রা.-এর মতো প্রমুখ বীর-বিক্রমী যোদ্ধা সাহাবিগণ। এসব সমাধি ও স্থাপত্য মুসলমানদের অসংখ্য স্মৃতির স্বাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে জর্দানের মাটিতে। বিভিন্ন লক্ষ্য-উপলক্ষ্যে বিশে^র বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনও মুসলমানরা তা পরিদর্শনে এসে থাকেন। আর তাই জর্দানে ছড়িয়ে থাকা এসব পর্যটনকেন্দ্রে সারা বছর মুসলমানদের আনা-গোনাও খুব বেশি হয়ে থাকে। জর্দান হচ্ছে মুসলমানদের জয়-বিজয়ের গৌরবগাঁথা, বিচিত্র ইতিহাস ও বড় বড় ঐতিহাসিক যুদ্ধের স্বাক্ষ্য-বাহক। এর মধ্যে মু’তা যুদ্ধের বিজয়-গৌরব ভোলার মতো নয়। দুই লাখ রোমীয় সেনার বিরুদ্ধে মাত্র তিন হাজার নির্ভীক মুসলিম সেনার এক অলৌকিক জয়। তাছাড়া ইয়ারমূক ও ফাহাল যুদ্ধে মুসলমানদের যুদ্ধবিজয়ের প্রেক্ষাপটও এই রণভূমি। এসব স্থান পূন্যাত্মা সাহাবিদের পদ-ধূলিতে ধন্য হয়ে আছে। এখানে তাদের অস্তিত্ব ও চারণ-বিচরণের স্মৃতিরা এখনও যেনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
এই দীনি পর্যটনকেন্দ্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষত সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ ও কুরবানির বিনিময়ে যে ধর্মীয় ও ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তার মূল্যবান সেই নিদর্শন ধরে রাখতেই বিশেষ এই উদ্যোগ।
যেসব নেতৃস্থানীয় সাহাবিদের পদভারে জর্দানের ভূমি অলঙ্কৃত হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন মু’তা যুদ্ধের তিন গর্ব- যায়েদ বিন হারেছা, জাফর বিন আবি তালিব, আব্দুল্লাহ বিন রওয়াহা। জর্দানের দক্ষিণে মু’তার মাজার শহরে তাঁরা সমাহিত। এখানকার বিশাল বিশ^বিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে তাদের সমাধি সহজেই প্রত্যক্ষ্য করা যায়।
যায়েদ বিন হারেসা রা.
তাঁর সমাধিটি জর্দানের আল-কারক জেলার মাজার নামক মরু অঞ্চলে অবস্থিত। একটি সম্পূর্ণ নতুন ভবন গড়ে তোলা হয়েছে এখানে। এর ভেতরেই যায়েদ বিন হারেসার সমাধি। মু’তা যুদ্ধের প্রথম সেনানায়কের পদটা প্রথমে তিনিই অলঙ্কৃত করেছিলেন। তাই যুদ্ধের প্রথম ঝা-াটা তাঁর হাতেই ছিলো। আরবের এই শ্রেষ্ঠ ধনুকধারী মাররে ইয়াসির ছাড়া প্রায় সকল যুদ্ধেই সমানভাবে অংশ নিয়েছিলেন। যুদà