সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


শাহিনের ঈদ শপিং

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

aminul islamরাত তখন ৮-২৫ পি.এম.। শাহিন তার রিক্সাটা এক পাশে রেখে ‘ফোন ফ্যাক্সের দোকানে ঢুকে। নাম্বারটা লাগিয়ে অপেক্ষা করছে- টু...ট, টু...ট হ্যালো।

: হ্যালো মামি, ভালো আছেন?

: কেডা শাহিনে?

: হ মামি, মাইরে একটু দেন।

: দিতাছি।

: বাজান শাহিন.. কেমন আছস বাজান?

: হ মা আমি ভালই আছি। তুমি কেমুন আছ? নাছিমা রাকিব কেমুন আছে?

: আমডা সব্বাই বালা আছি বাজান। তুই কইলাম ঈদের দুইদিন আগেই চইললা আইবা।

: আইচ্ছা আইয়াম। আইচ্ছা মা তোমার লাইগগা কি মেষ্টা রঙের শাড়ী আনতাম নাকি আকাশি রঙের আনতাম?

: আমার লাইগা কিচ্ছু আনন লাগবো না। পারলে রাকিবের লাগি একটা পাঞ্জাবী আনিস।। বাজান! তোর ম্যালা কষ্ট হ না! আমারে তুই মাপ কইরা দিস বাজান... এতটুকু বলেই রাকিবের মা কাঁদতে শরু করেন।

: মা তুমি কাইন্দ না, কইলামতো আমার কোনো কষ্ট হয় না। তোমার দু'আ আমার লগে আছে না! মা দেইখো একদিন সত্যিই সত্যি আমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করাম। আমারে লইয়া তুমি যেই স্বপ্ন দেখতা তা আমি রাকিবরে দিয়া পূরণ করাম। রাকিবরে বড় আলেম বানাইয়াম। মা অহন তাইলে রাইখা দেয়। আল্লাহাফেজ।

: আল্লাহাফেজ। রাকিব মোবাইলটা দোকানীকে দিয়ে জিজ্ঞেস করে

: ভাই কই মিনিট হইছে ?

: আট মিনিট।

শাহিন আট মিনিটের টাকা পরিশোধ করে রিক্সার পেডেলে পা রাখে। কিছুদূর যাওয়ার পর এক ভদ্রলোক ডাক দেয়

: এই রিক্সা যাবে?

: কোথায় যাবেন স্যার?

: নিউ মার্কেট।

: উঠেন।

ভদ্রলোক রিক্সায় চেপে বসলে শাহিন পেডেল চাপাতে শুরু করে। মিনিট পাঁচেক পর লোকটি শাহিনকে জিজ্ঞেস করেন

: আচ্ছা এই বয়সেই তুমি এমন কঠোর পরিশ্রমের কাজে লেগে গেলে কেন? এখনতো তোমার লেখা-পড়ার বয়স। নিজেকে গড়ে তোলার সময়, ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন দেখার সময়।

: স্যার! স্বপ্ন দেখার অধিকার কি আর সবার থাকে? আমরাতো গরিব, আর গরিবদের তো স্বপ্ন দেখতে নাই। এতে কেবল কষ্ট ছাড়া অন্য কিছু নাই।

: না না না। তোমার কথার সাথে আমি একমত হতে পারছি না। স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার জন্য সমান। এখানে ধনি-গরিব বলে কিছু নেই। বাই দ্যা ওয়ে, তুমিতো বেশ গুছিয়ে কথা বল। মনে হচ্ছে তুমি শিক্ষিত ফ্যামিলির ছেলে। তা এ পথে এলে কেন? নিশ্চয় তোমাদের পরিবারে খুব বড় ধরণের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমাকে কি খুলে বলবে?

: আমার কষ্ট আমার কাছেই থাক না। অযথা কেন আপনি বোরিং হবেন।

: দেখ আমি একজন লেখক। আমি চাই তোমার এই কষ্ট সবাই জানুক। আমি তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই ওইসব মানবাধিকার নেতাদের যারা মঞ্চ কাঁপায় মিথ্যার ফুলঝুরি দিয়ে। তারা দেখুক তোমার এই কষ্ট। আমি দেখতে চাই তাদের মন আজ কতটুকু কাঁদে।

: স্যার আপনার গন্তব্য এসেছে। এই বলে শাহিন রিক্সা থামিয়ে নিচে নামে।

: আচ্ছা নাম কি তোমার?

: শাহিন।

: চলো কিছু খেয়ে নেবে।

: না স্যার, ভাড়াটা দিয়ে দেন। আমায় আরো খ্যাপ মারতে হবে। ভদ্রলোক শাহিনকে পাঁচà¦