আওয়ার ইসলাম ডেস্ক : নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ঔপন্যাসিক মৃত্যুর আগে নবীজী সা. এর জীবনী লিখছিলেন। কাজটি তিনি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেন নি। মৃত্যুর পর জীবনীটির কিছু অংশ প্রকাশিত হয়। ইমদাদুল হক মিলনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হুমায়ূন বলেছিলেন সেই জীবনীটি সম্পর্কে। আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারটির অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো।
ইমদাদুল হক মিলন : আপনি অনেক দিন ধরে বলছেন যে হজরত মুহাম্মদ সা.-এর জীবনী আপনি লিখতে চান। সেই লেখার প্রস্তুতিটা কী রকম
হুমায়ূন আহমেদ : আমার প্রস্তুতির কথা বলব, কিন্তু এখানেও কিছু সমস্যা আছে। সমস্যা হলো দুই ধরনের। প্রথম সমস্যা হলো, আমার মধ্যে কিছু ছেলেমানুষি আছে তো...আমি যখন সব কিছু ঠিকঠাক করলাম, তখন একটা ঘটনা ঘটে। শুরু থেকেই বলি। বাংলাবাজারে অন্যপ্রকাশের একটি স্টল আছে। স্টলটি উদ্বোধনের জন্য আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক দিন পরে আমি বাংলাবাজারে গেলাম। স্টলের ফিতাটিতা কাটলাম। এক মাওলানা সাহেব প্রার্থনা করলেন। আমি খুবই অবাক হয়ে তাঁর প্রার্থনা শুনলাম। আমার কাছে মনে হলো, এটি বইপত্র সম্পর্কিত খুবই ভালো ও ভাবুক ধরনের প্রার্থনা। একজন মাওলানা এত সুন্দর করে প্রার্থনা করতে পারেন যে আমি একটা ধাক্কার মতো খেলাম। মাওলানা সাহেবকে ডেকে বললাম, ভাই, আপনার প্রার্থনাটা শুনে আমার ভালো লেগেছে। মাওলানা সাহেব বললেন, স্যার, আমার জীবনের একটা বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল আপনার সঙ্গে একদিন দেখা হবে। আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আমি তাঁর কথা শুনে বিস্মিত হলাম। আমি বললাম, এই আকাঙ্ক্ষাটি ছিল কেন? মাওলানা সাহেব বললেন, আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই কারণ আমি ঠিক করেছি, দেখা হলেই আপনাকে আমি একটা অনুরোধ করব। কী অনুরোধ শুনি? আপনার লেখা স্যার এত লোকজন আগ্রহ নিয়ে পড়ে, আপনি যদি আমাদের নবী করিমের জীবনীটা লিখতেন, তাহলে বহু লোক এই লেখাটি আগ্রহ করে পাঠ করত। আপনি খুব সুন্দর করে তাঁর জীবনী লিখতে পারতেন। মাওলানা সাহেব কথাগুলো এত সুন্দর করে বললেন যে আমার মাথার ভেতর একটা ঘোর তৈরি হলো। আমি তাঁর কাঁধে হাত রেখে বললাম, ভাই, আপনার কথাটা আমার খুবই মনে লেগেছে। আমি নবী করিমের জীবনী লিখব। এই হলো ফার্স্ট পার্ট। চট করে তো জীবনী লেখা যায় না। এটা একটা জটিল ব্যাপার, কাজটা বড় সেনসেটিভ। এতে কোথাও একটু উনিশ-বিশ হতে দেওয়া যাবে না। লিখতে গিয়ে কোথাও যà