সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


মাসুদ খানের গুচ্ছকবিতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

masud khan_1

মাসুদ খান:

মৎস্যস্বভাবা

মা জননী, প্রজায়িনী, ওরে ঔদরিক,
এতটাই বুভুক্ষা তোমার!
আগে-আগে খেয়ে ফ্যালো যারা ছিল শ্রেষ্ঠ
সন্তান তোমার!

তারপর করো শোক
মা আমার,
ধীরা ধারিণী আমার,
হয়ে ওঠো অধীরা আকুল।

‘কোথায়? কোথায় আহা আমার সোনার সন্তানেরা?
শস্যজ্যোতির ঝিলিক-ঝরানো সেই বাছারা আমার?’--
ব’লে হাহাকার করতে করতে ধেয়ে যাচ্ছ তুমি
শ্যাওলাঘোলা এক দূর পিচ্ছিল ভবিষ্যতের দিকে
জটাস্যজটিল ইতিহাস ও মলিন মানচিত্রে বাঁধা
এ পোড়া দুর্ভাগা জলরাজ্য জুড়ে
তীব্র তোলপাড় তুলে, তুমুল মাতম করে ফিরছ জননী।

আয়ত্ত করেছ বটে তুমি মাতা মাছের স্বভাব।
আর এই ঘোলাটে জলায়তনে জলজেরা উৎকণ্ঠিত চেয়ে দ্যাখে--
সন্তানের শোকে
ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে উন্মাদিনী সে মৎস্যজননী।

 

বৃষ্টি-৩

রাত্রিতে তুমুল বৃষ্টি আজ
বিজলি আর ঝোড়ো হাওয়াসহ।

আজ রাতে যেইখানে যত বাক্য আছ অর্থহীন হাবা-হাহাকার
যত বাক্য আছ ঠাণ্ডা আততায়ী উদ্বাস্তু ফেরার
যত বাক্য আছ ভাঙা-ভাঙা আর ভাঙাচোরা আর ফ্র্যাগমেন্ট
হঠাৎ ঝিলকে ওঠা দুনিয়ার যত লিপিহীন ভাষার কথারা,
স্ফুট ও অস্ফুট সব কথা--
দণ্ডে-দণ্ডে পলে-পলে অযথা-উৎপন্ন যত কথা, কথার শ্রাবণ--

আজ রাতে এত চেষ্টা করছি
ওইসব পালিয়ে-থাকা, অবিরাম পলায়নপর,
অসহায়, ঠাণ্ডা যত বাক্যে বাক্যে অর্থ আরোপের, উষ্ণতা আরোপের,
কথাগুলি সংগঠিত করবার--
কিন্তু নিষ্ফল!
কোনো বাক্য, কোনো বাণী বা বচন--ম্লেচ্ছ কিংবা মহাজনি, কিংবা নিরাকার--
কিছুই আজ আর অর্থ পাচ্ছে না, আকার পাচ্ছে না।

 

হাইপার রিয়ালিটি

মরণের পর মা-রা দেহ ছেড়ে চলে যান দূরের বিদেহপুরে।
তারপর প্রতিদিন ওই ব্যস্ত বিদেহনগর থেকে এসে
ঘুরে ঘুরে দেখে যান যার-যার ছেড়ে-যাওয়া সোনার সংসার।
অন্তত প্রথম ত্রিশ দিন।
কী করছে আহা সোনামণিরা তাদের,
কেমনই-বা কাটছে তাদের দিন, মাতৃহীন...
বিষাদবাতাস, ঘন দীর্ঘশ্বাস, ফাঁকা-ফাঁকা ঘরদোর, আশপাশ...

নবমৃত মায়েদের কি-জানি কেবলই মনে হতে থাকে--
বেঁচেই আছেন তারা সংসারে, হয়তো
সংসারেরই ভিন্ন কোনো সম্প্রসারে-- মায়ায়, আবেশে।
যেমন জন্মের অব্যবহিত পরের কিছুদিন
নবজাতকের কাছে
মনে হতে থাকে যেন সে রয়েছে তখনো মায়েরই গর্ভকোষে।

 

পরিত্যক্ত অ্যারিনায় নৈশ অধ্যায়

মৃত এই প্রেক্ষাক্ষেত্রে কারা আসে আবার সজীব?
ধৃতরাষ্ট্র! হাঃ, সেও এসেছে! সে তো এখন পর্যন্ত জ্যান্ত, জীব।
জীব আর কতটা দীপনশক্তি ধরে à¦